পাঁচটি রাজ্য যথাক্রমে, মহারাষ্ট্র, ছত্রিশগড়, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক এবং কেরালায় আক্রান্তের সংখ্যা গোটা ভারতে মোট আক্রান্তের ৬৩.১৮%।

ভারতে চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ এপ্রিল, ২০২১, সোমবার - প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কোভিড আক্রান্তের দিক থেকে ভারত পৃথিবীর প্রায় সব দেশকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সোমবারও দেশটিতে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮১০ জন রোগী এবং মারা গিয়েছেন ১৬১৯ জন।

নতুন শনাক্তের প্রায় ৭৮.৫৮ শতাংশই মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, কর্ণাটক, কেরল, ছত্তিসগড়, মধ্য প্রদেশ, তামিলনাড়ু, গুজরাট এবং রাজস্থান সহ দশটি রাজ্যের অধিবাসী। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রে শণাক্তের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৬৩১, উত্তর প্রদেশে ৩০ হাজার ৫৬৬ এবং দিল্লীতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৮৬২ জন।

এ পর্যন্ত ভারতের মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা দেড় লক্ষ ছাড়িয়েছে। ভারতে দৈনিক শণাক্তের শতকরা হার প্রায় ১২ দশমিক ৮১। তথ্যানুসারে পাঁচটি রাজ্য যথাক্রমে, মহারাষ্ট্র, ছত্রিশগড়, উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক এবং কেরালায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে দেখা যায়, বিশ্বের এ যাবতকালের সবচেয়ে বৃহৎ কোভিড টিকাদান অভিযানের অংশ হিসেবে ভারত নিজ ভূখণ্ডের প্রায় ১২ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষকে টিকার আওতায় আনছে।

এর মধ্যে প্রায় নয় কোটি মানুষ প্রথম ডোজ নিয়েছেন এবং প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করেছেন। ষাটোর্ধ্ব প্রায় চার কোটি নাগরিককে সেবার আওতায় আনা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১২ লক্ষেরও বেশি টিকা প্রদান করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়েছে, ভারতে কোভিড রোগীদের সুস্থ হবার হার দৈনিক ৮৬ শতাংশ এবং বিগত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন প্রায় এক কোটি ২৯ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮২১ জন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তত্ত্বাবধানে হওয়া দরিদ্র কল্যাণ তহবিলের বর্তমান প্যাকেজটি ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরপর কোভিড যোদ্ধাদের জন্য আরও একটি নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ বা বীমা পলিসির প্রবর্তন করা হবে। দরিদ্র কল্যাণ তহবিলটি ২০২০ সালের মার্চ মাসে ঘোষণা করা হয়েছিলো এবং তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ভারতে করোনায় সম্মুখ যোদ্ধাদের এবং আক্রান্তদের সহযোগিতার লক্ষ্যে পিএম কেয়ার নামে প্রধানমন্ত্রী কল্যাণ তহবিল চালু করা হয়। ২০০০ টাকার বীমায় ৫০ লক্ষ টাকা কভারেজের তহবিলটি ২৮৭টি বীমা সংস্থা দ্বারা পরিচালনা করা হয়।

তবে আশার খবর হচ্ছে, ভারতের কেন্দ্রশাসিত দশটি রাজ্য বা অঞ্চল গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনও করোনা রোগীর মারা যাবার খবর দেয়নি। অঞ্চল গুলো হলো যথাক্রমে, লাদাখ (ইউটি), দামান এবং দিউ এবং দাদ্রা নগর হাওলি, ত্রিপুরা, সিকিম, মিজোরাম, মণিপুর, লক্ষদ্বীপ, নাগাল্যান্ড, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং অরুণাচল প্রদেশ।