কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরীর কাঁচামাল রপ্তানীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক এবং করোনা প্রতিরোধকারী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা প্রস্তুতকরণের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিরাম ইনস্টিটিউ ইন্ডিয়া’ ওষুধ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সঙ্কটের কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে সহানুভূতি সম্পন্ন দৃষ্টিপাত করতে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আদার পুনাওয়ালা সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনকে টুইট করেছিলেন।



তাঁর এ দাবির পর বিষয়টি নতুন করে দু দেশের কূটনৈতিক পাড়ায় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মূলত এরপরই, মার্কিন প্রশাসন ভারতকে জানিয়েছে যে তারা ভারতের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং শীঘ্রই যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।



উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় আমেরিকা শীর্ষে অবস্থান করছে। এর প্রেক্ষিতে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেণ্ট জো বাইডেন নিজ দেশে কাঁচামালের ব্যবহারের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। তাঁর পূর্বসূরী ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই নীতি অবলম্বন করেছিলেন। এর মাধ্যমে আমেরিকান সংস্থা গুলো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরী এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) -এর ব্যাপক উৎপাদনে মনযোগী হয় এবং আমেরিকার বাইরে কাঁচামাল রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।



ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে ভারত-মার্কিন গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা পেতে এবং ভ্যাকসিন তৈরীতে কাঁচামাল সরবরাহের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রদ করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যহত রেখেছে।



গত ১২ মার্চ ভারত-আমেরিকা-জাপান-অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত চার জাতি ভার্চুয়াল আলোচনার পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ সর্ব প্রথম এ বিষয়টির উপর আলোকপাত করেছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।



পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে, “আমরা বুঝতে পারছি এটি (কাঁচামাল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি) আমেরিকার আভ্যন্তরীণ বিষয় এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের অধীনে আমেরিকা ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে, এমন সব কাচামালের রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”



তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের প্রয়োজনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন প্রশাসনের নিকট আমাদের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তুলে ধরেছি। আশা করছি ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হবে।”



প্রসঙ্গত, আমেরিকা কোভিড-১৯ নিরাময়ের টিকা হিসেবে ফাইজার এবং মোদার্নার তৈরী ভ্যাকসিন ব্যবহার করছে এবং আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ দেশের সকল নাগরিককে টিকা প্রদানের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। তাই ভারত সহ সারা বিশ্বে ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর কাঁচামাল সরবরাহকারীগণ আমেরিকার বাইরে রপ্তানী করতে পারছেন না।