মহামারী বিরোধী লড়াইয়ে ভারতীয় ওষুধ শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে, জনগণের কল্যাণে নিশ্ছিদ্র ওষুধ সরবরাহ নিয়মিত চালু রাখতে এবং প্রয়োজনে সেবার মান বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওষুধ শিল্প মালিক নেতৃত্বের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল, ২০২১, সোমবার, এক ভিডিও কনফারেন্সে ওষুধ শিল্পের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী এ আহবান জানান।



বৈঠকটি এমন এক সময়ে হলো যখন ভারত করোনা মহামারী পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাচ্ছে। বিগত ২৪ ঘন্টায় ভারতে কোভিড শণাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষেরও অধিক।



বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফার্মেসী শিল্পের এই নেতাদের প্রতি আহবান জানান কোভিডের পাশাপাশি ভবিষ্যতে হুমকি হতে পারে, এমন সকল ভাইরাসের বিষয়ে গবেষণা চালানোর এবং পূর্ব থেকে প্রস্তুতই গ্রহণের। এটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে ভারতকে সহায়তা করবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় মহামারী বিরোধী লড়াইয়ে ভারতীয় ওষুধ শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।



ওষুধ শিল্প মালিকদের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী এই শিল্পে সরকারী নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়ার দ্রুত সংস্কারের ব্যাপারেও আশ্বাস দেন। ইতোপূর্বে ওষুধের সরবরাহ এবং পরিবহণ খাতে ওষুধ শিল্পকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।



মহামারী চলাকালে ভারত বিশ্বের প্রায় দেড় শতাধিক দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো এবং ওষুধ শিল্পের এই বিকাশে ভারতকে বর্তমানে ‘বিশ্বের ফার্মেসী’ বলে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী।

সমস্ত চ্যালেঞ্জকে উপেক্ষা করে বিগত বছরের রপ্তানী খাতে ভারতীয় ওষুধ শিল্প ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করায় ভবিষ্যতে এর মাঝে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



এছাড়াও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি, ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধে জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করায় এবং রেমডেসিভিরের মতো দামি ইনজেকশনের দাম হ্রাস করায় শিল্প মালিক ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী।



এসময় সরকারী সহযোগিতা প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে সরকারের নেতৃত্বকেও প্রশংসায় ভাসান ওষুধ শিল্প মালিকগণ।



উক্ত ভার্চুয়াল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হর্ষবর্ধন, এমওএস (স্বাস্থ্য) অশ্বিনী কুমার চৌবে, কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী ভি.ডি সদানন্দ গৌড়া, এমওএস (সিএন্ডএফ) মনসুখ মন্দাভিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ভি কে পল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব, ইউনিয়ন সচিব এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সচিব বলরাম ভরগভা - ডিজি আইসিএমআর সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।