প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের আভ্যন্তরীণ উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।

ভারত নিজেদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সঙ্গে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। সম্প্রতি সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বৈশ্বিক বক্তৃতা সভায় “ভারতের বৈদেশিক নীতিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল” -বিষয়ে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।



পূর্বে শিলিগুড়ি থেকে মণিপুর, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম সহ প্রভৃতি এলাকায় পণ্য পরিবহণ করতে প্রচুর অর্থ এবং সময় ব্যয় করতে হতো উল্লেখ করে শ্রিংলা জানান, বর্তমানে নয়াদিল্লী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সমূহ এবং প্রতিবেশী নেপাল, মিয়ানমার ও ভূটানের সাথে পারস্পরিক যোগাযোগ ও পণ্য চলাচলের জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে।



এ সময় নেপালের সঙ্গে ভারতের মতিহারি-আমলেখগঞ্জ জ্বালানী পাইপলাইন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পার্বতীপুর-শিলিগুড়ি জ্বালানী পাইপলাইন এর উদাহরণ টেনে শ্রিংলা বলেন, নয়াদিল্লী প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে পারস্পরিক উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করেছে।



বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে সহায়তা করতে ভারত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে জানিয়ে শ্রিংলা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” কেবলমাত্র আমাদের আভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মার্গ নয়, বরং আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের বেলায়ও তা প্রযোজ্য।”



প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক ভারতের আভ্যন্তরীণ উন্নয়নেও কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তাঁর ব্যাখ্যায় শ্রিংলা বলেন, “২০১৯ সাল থেকে অদ্যবধি উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমের পর্যটন শিল্পে আয় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে পর্যটকদের ৫০ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশ থেকে আগত। ইতিবাচক উন্নয়নের অন্যতম উদাহরণ এটি।”



বাংলাদেশ হতে আগত পর্যটক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভিসা বরাদ্দের হার বিগত কিছু বছরে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা ব্যক্ত করে শ্রিংলা বলেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীন ভূখণ্ড হিসেবে মর্যাদা লাভের পরও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা ম্যানুয়াল অসংশোধিত অবস্থায় ছিলো। আমি বিষয়টি লক্ষ্য করি এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে অবহিত করি। তিনি তাৎক্ষণিক ভিসা ম্যানুয়ালে পরিবর্তন আনেন। পূর্বে আমরা প্রতিবছর ৫ লক্ষ বাংলাদেশীকে ভিসা দিতাম, বর্তমানে তা প্রায় ১৫ লক্ষ। ফলে পর্যটকদের এক বিশাল আগমণ ঘটছে প্রতিবছর আমাদের ভূখন্ডে।”