ভানিতা তাঁর সততা, একাগ্রতা এবং ন্যায়ের প্রতি অবিচলতার জন্য প্রশাসনে পরিচিত মুখ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ক্রমশই বাড়ছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা। সে তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনীত হওয়া ভানিতা গুপ্তা।



গত বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১, মার্কিন সিনেট সদস্যদের এক ভোটাভুটিতে ডেমোক্রেট দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। মোট ১০০ মার্কিন সিনেটর ভোটের মধ্যে ভানিতা পান ৫১ টি আর তাঁর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৯ টি। অলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মার্কাওয়াস্কি নিজ দলের বিপক্ষে গিয়ে ভানিতার পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এ পদে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে অধিষ্ঠিত হলেন ভানিতা।



প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং উপ-রাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিস।



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করা ৪৬ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভানিতা যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিস ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। নাগরিক অধিকার আদায়ের একজন প্রধান কর্মী হিসেবে তিনি স্বনামধন্য।



২০০১ সালে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি আইন পেশায় পুরোপুরি নিজেকে নিয়োজিত করেন। এরপর এখানেই টেক্সাস এলাকায় তিনি মাদক সংক্রান্ত এক জালিয়াতি মামলায় আটক হওয়া ৩৫ কৃষ্ণাঙ্গের পক্ষে লড়াই করেন। সেখানে ভানিতা প্রমাণ করেন যে টম কলম্যান নামে এক মাদক পাচারকারী এজেন্ট দ্বারা বানোয়াট মিথ্যা মামলায় উপরোক্ত ৩৫ ব্যাক্তি আটক হয়েছিলেন। তাঁর পেশ করা তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে টেক্সাসের গভর্নর দণ্ডিত ৩৫ কৃষ্ণাঙ্গকে ক্ষমা ঘোষণা পূর্বক মুক্ত করে দেন। এরপরই মূলত ভানিতা গুপ্তা দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন।



উল্লেখ্য, ভানিতা ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল অবধি বারাক ওবামা প্রশাসনেও নাগরিক অধিকার আদায় সংক্রান্ত কাজ করেছেন।