তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে বিবিসি বরাবরই ভারত সহ অন্যান্য এশীয় ও আফ্রিকান দেশসমূহের বিরুদ্ধে সরেজমিনের তথ্য উপেক্ষা করে থাকে।

সম্প্রতি “দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি: ভারতে আবারও অক্সিজেন সরবরাহ সঙ্কট” -শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনপ্রিয় পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। এতে উক্ত সঙ্কট তৈরী হওয়ার পেছনে মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছে তারা।

তবে প্রতিবেদনটি বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এতে মহামারী নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ সমূহকে উপেক্ষা এবং খর্ব করে দেখানো হয়েছে বলে মনে করছেন বুদ্ধিজীবীগণ।

বিবিসি এই রিপোর্টের শুরুতেই, দিল্লীর স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের রোগীদের মর্মান্তিক অবস্থা তুলে ধরে এবং কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লী রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করেনি বলে অভিযোগ তুলে।

দিল্লীর মূখ্যমন্ত্রীর আর্জির প্রেক্ষিতে দিল্লী হাইকোর্ট হস্তক্ষেপের পরই কেবল ভারত সরকার দিল্লীর রোগীদের অবস্থার উন্নয়নে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অক্সিজেন সরবরাহে বাঁধা প্রদান করায় দিল্লী হাইকোর্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক (ওয়ার্নিং) করেছে।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, দিল্লী হাইকোর্ট আদতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনো প্রকার সাবধান বা সতর্কতা বাণীই পাঠায়নি। কোর্ট গুটিকয়েক ব্যাক্তিকে সতর্ক করেছে মাত্র, যারা অক্সিজেন সরবরাহে বাঁধার সৃষ্টি করতে পারে।

দিল্লীর প্রাদেশিক সরকার কর্তৃক কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করতে বলেন এবং হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যেসব কর্মকর্তার জন্য সাপ্লাই ব্যহত হচ্ছে, তাদেরকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের দোষী ব্যক্তিদের নাম কেন্দ্রীয় সরকার এবং আদালতের নিকট জমা করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশনা দেয় হাইকোর্ট।

তাই অক্সিজেন সহ প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন বা মেডিসিন উৎপাদন এবং সরবরাহে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ সমূহকে সতর্ক করার যে খবর বিবিসিতে প্রকাশিত হয়েছে, তা কার্যত সম্পূর্ণই ভুয়া এবং হাস্যকর।

অক্সিজেন সরবরাহ সম্পর্কিত পরিস্থিতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যবেক্ষণ করছেন জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাক্তার হর্ষবর্ধন বলেন, “দিল্লী সহ প্রায় ২০ টি রাজ্যে যে পরিমাণ অক্সিজেন সাপ্লাই চেয়েছিলো, তাদেরকে তারচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।” প্রাপ্য অক্সিজেন সরবরাহের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দায়িত্ব বলে মত দেন তিনি।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেসরকারী ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের দৈনিক অক্সিজেন সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন পূর্বেই ওষুধ শিল্প মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাদেরকে জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদির উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়ানোর আর্জি জানান এবং সকল ধরণের সরকারী সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে অক্সিজেনের ঘাটতিকে সরকার সৃষ্ট উল্লেখ করে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা উৎপাদনেও ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হয়। অথচ ভারত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে দ্রুততম দেশ হিসেবে মাত্র ৮৫ দিনে ১০০ মিলিয়ন ডোজ টিকা উৎপাদন করেছে, যেখানে আমেরিকার প্রয়োজন হয়েছে ৮৯ দিন এবং চীন প্রায় ১০২ দিনে এই মাইলফলক অর্জন করে।

তাছাড়া সম্প্রতি ভারতের সর্বত্র সঙ্কট নিরসনে মোদী সরকার “অক্সিজেন এক্সপ্রেস” সেবা চালু করেছে এবং বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রাজ্যগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও, প্রতিবেদনটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টা এবং অর্জনকে ধুলিস্মাৎ করে দিয়ে এক তরফা ভাবে রাজ্য সমূহের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে প্রকট করে তুলে ধরা হয়।

তাই বিবিসি যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তা যারপরনাই স্ববিরোধী এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডা মাত্র হিসেবে মত দিয়েছেন অভিজ্ঞজনেরা।