ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় রাখতে কোয়াডভূক্ত সদস্য দেশগুলো অঙ্গীকারবদ্ধ।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে গোটা বিশ্ব এক পরিবার এবং মহামারীতে সে পরিবার এক বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মন্তব্য করে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরণ বলেছেন, “ভারত স্বীয় ঐতিহ্যের ‘বাসুদাইভা কুতুম্বকাম’- নীতি মেনে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং গঠনতান্ত্রিক পরিচালনার জন্য কাজ করে চলেছে।”

গত ২৯ এপ্রিল, ২০২১, বৃহস্পতিবার, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াড” -শীর্ষক দুদিন ব্যপী আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রেও ভারত উপরোক্ত নীতি মেনে চলে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ভারত স্বীয় মিত্র দেশগুলোর উন্নয়নে সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এসসিও, ব্রিকস, আরআইসি সহ সকল অংশীদার বন্ধু দেশ গুলোর সঙ্গে ভারত যৌথভাবে কাজ করে চলেছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থেকেছে।”

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াড জোটকে আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং সঙ্কটে সহায়তার অন্যতম প্ল্যাটফর্মে হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলা সহ যাবতীয় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সার্বভৌমত্ব, অখন্ডতা রক্ষা, অন্যান্য বিধি বিধান মেনে চলা এবং পারস্পরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অন্যতম প্ল্যাটফর্মে কোয়াড।”

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডভুক্ত সদস্য দেশগুলো অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ বলে অভিমত দেন প্রতিমন্ত্রী মুরালিধরণ। তিনি বলেন, “আমরা কারুর বিরুদ্ধে কোনো ভূমিকা নেয়ার পক্ষপাতী নই। স্বীয় প্রয়োজনে যে কারুর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা যেতে পারে, পরামর্শ আদান প্রদান করা যেতে পারে। তবে সেটা অন্যদের বিপক্ষে দল পাকানো নয়। কোয়াড কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাজ করেনা।”

এখনও অবধি কোয়াড ভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ে তিনটি এবং সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ে সাতটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান মুরালি। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে জাপান, ভারত, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া মিলে চার জাতি জোট গড়ে তোলে। এটিই কোয়াড নামে পরিচিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোয়াড নেতারা ভ্যাকসিন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নব্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো সমসাময়িক ইস্যুগুলো কেন্দ্র করে একটি ইতিবাচক এজেন্ডা গ্রহণ করেছেন।

বক্তৃতাকালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশ্ব মানবতার খাতিরে এক হবার আহবান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “বৈশ্বিক কল্যাণের নিমিত্তে কোয়াড কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভারতও পাশে থাকবে।”