ব্রিকস ভূক্ত দেশগুলো বিশ্বের সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনা করে থাকে।

ব্রিকসের ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০১ জুন, মঙ্গলবার, ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বৈঠকে উদ্বোধনী ভাষণে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে এমন একটি সুষ্ঠু, ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্ব মূলক বহুমুখী ব্যবস্থা প্রচলনের চেষ্টা করে চলেছি, যা সমস্ত রাষ্ট্রের সার্বভৌম সাম্যকে স্বীকৃতি দিবে এবং আঞ্চলিক অখন্ডতাকে সম্মান করবে।”

এসময়, রাষ্ট্রসমূহের ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্রিকস একটি রোল মডেল তৈরী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, ব্রিকস বিশ্বের বৃহত্তম পাঁচটি উন্নয়নশীল দেশের সমন্বয়ে গঠিত অর্থনৈতিক জোট, যা পুরো পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪১%, বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৪% এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬% -কে প্রতিনিধিত্ব করে।

২০০৬ সালে ব্রিকস গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় এবং ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত পনেরো বছরের যাত্রায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, সাইবার সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহ অর্থনৈতিক সহযোগিতার নিত্য নতুন ক্ষেত্রে একত্রে কাজ করে চলেছে ব্রিকস। উন্নয়নশীল দেশ সমূহের চাহিদা এবং উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা এবং দাবির ক্ষেত্রে ব্রিকস একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

তাছাড়া ব্রিকসের নিজস্ব ব্যাংকও রয়েছে। ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)’ নামের এই ব্যাংকটি ব্রিকস ভূক্ত দেশ গুলোতে অবকাঠামোগত এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলোতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ৭৬ টি প্রকল্প অনুমোদন বা পরিচালনা করছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে করোনা মোকাবেলায় জরুরী সহায়তা সহ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ১৮ টি প্রকল্প ভারতে পরিচালনার জন্য অনুমোদন পেয়েছে।

সম্প্রতি ব্রিকস ভূক্ত দেশ সমূহকে করোনা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একত্রে কাজ করার আহবান জানিয়েছে ভারত। ডিজিটাল প্রযুক্তিগত, স্বাস্থ্য, দারিদ্র, খাদ্য, শিক্ষা এবং অবকাঠামোগত বিষয়ে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সদস্য দেশগুলোও ইতোমধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ভারত বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নিবে চীন।