ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করছে ভারত

বিশ্বের সাতটি অগ্রসর দেশের জোট জি-সেভেনের নেতারা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ঠিক করে নেওয়ার চেষ্টায় বছরে একবার শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন। তারই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যের কর্ণওয়ালে আগামী ১১ থেকে ১৩ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বছরের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন।



তবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এবারের সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হবেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিষয়টিকে শুরু থেকেই ভারত এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সম্পর্কের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



এমন নয় যে ভারত প্রথমবারের মতো জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে কিংবা কোনো অ-পশ্চিমা দেশ এর আগে সম্মেলনে যোগ দেয়নি। তবে পূর্বের তুলনায় এবারে এত আলোচনার কারণ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বকে আমন্ত্রণের ধরণ নিয়ে।



এ নিয়ে সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশীয় স্টাডিজ ইনস্টিটিউট এর ডিরেক্টর সি রাজা মোহন দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। সেখানে এই বিশেষজ্ঞ লিখেছেন, “ভারতের জন্য কর্ণওয়ালে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন পশ্চিমাদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম মঞ্চ হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। এর মাধ্যমে কোয়াড ছাড়াও ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে পদক্ষেপ নিতে পারবে ভারত।



উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত।



রাজা মোহন আরও লিখেছেন, “সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমাগত অবনতির ফলে আমেরিকাসহ পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে ভারত।” ২০১৩, ২০১৪, ২০১৭ এবং ২০২০ সালে ভারতের উত্তর সীমান্তে হওয়া সামরিক সঙ্কট গুলো দিল্লীকে নিজেদের অবস্থান পুনর্নিমাণে বাধ্যে করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



তাছাড়া, লেখক রাজা মোহনের মতে, সীমান্ত সঙ্কটের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভারতের যে মঞ্চ গুলো রয়েছে, যেমন, রিক (রাশিয়া-ভারত-চীন), ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) -এর মতো ফোরামগুলো, তা বিগত কিছু বছরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।



এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, একমাত্র চীনের ভেট্যুর কারণেই ভারত এখনও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ এবং পারমাণবিক শক্তি সরবরাহকারী গ্রুপের সদস্যপদ পায়নি। এছাড়াও, ২০১৯ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের পর কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য চীন যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলো, পশ্চিমা সমর্থনের উপর ভর করেই তা রুখে দেয় ভারত। আবার, পাকিস্তানের মদদপুষ্ট সীমান্ত সন্ত্রাস ঠেকাতে আঞ্চলিকভাবে চীনের চেয়ে পশ্চিমাদের সমর্থন বেশি পেয়েছে ভারত।



রাজা মোহন লিখেছেন, ‘ভারত কেবল চীন নেতৃত্বাধীন এশীয় অর্থনৈতিক শৃঙ্খলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে অনিচ্ছুক। বাণিজ্য চুক্তির জন্য দেশটি বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্যদের প্রতি ঝুঁকছে। ভ্যাকসিন কূটনীতিতেও এগিয়ে যাচ্ছে ভারত।”



তবে নিজের লেখনীতে রাজা মোহন এটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের সঙ্গে পাশ্চাত্যের যে আর্থ-সামাজিক এবং ভৌগলিক পার্থক্য রয়েছে, তা উতরানো সহজ কাজ হবেনা। এক্ষেত্রে, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির শৃঙ্খলা সংশোধন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিতকরণ, সবুজ বর্ধন কর্মসূচি বৃদ্ধি, মহামারী থেকে বিশ্বকে রক্ষা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার মাত্রা ব্যাপক পরিমাণে বাড়ানোর আহবান জানান তিনি।