দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভারত এবং জার্মানী উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভূক্ত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে জার্মানীকে অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে সম্বোধন করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। গত ০৯ জুন, বুধবার, ভারত-জার্মানীর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ তম বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, “ভারত-ইইউ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি উভয় দেশের অর্থনীতির জন্যই লাভজনক।”



অনুষ্ঠানে ভারত এবং জার্মানীর মিত্রতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রিংলা বলেন, “বহুপাক্ষিক এবং আন্তর্জাতিক সকল সংস্থায় পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে ভারত এবং জার্মানী। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, সাইবার সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সার্বিকভাবে একে অন্যের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট আমরা।”



এসময়, মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং সংশোধনের পাশাপাশি সকল সম্প্রদায় ও রাষ্ট্রের সম্মান নিশ্চিত করতে সমমনা দেশ গুলোকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও আলোকপাত করেন শ্রিংলা।



পাশাপাশি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত এবং অন্তর্ভূক্ত মূলক উন্নয়নের জন্য জার্মানীর সাথে কাজ করার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন তিনি।



প্রসঙ্গত, ০৭ মার্চ, ১৯৫১ সালে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে জার্মানী। এরপর থেকে দু দেশের মধ্যকার সম্পর্কের গ্রাফ সবসময়ই উর্ধ্বমুখী। তাছাড়া, ২০০০ সালে দেশ দুটোর মধ্যে হওয়া কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তির পর থেকে শিক্ষা ও গবেষণা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।



ডাকটিকিট প্রকাশ অনুষ্ঠানে, করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় জার্মানীর সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী বন্ধনের কথা স্মরণ করেন শ্রিংলা। উল্লেখ্য, সঙ্কট চলাকালীন প্রথমভাগে, জার্মানীকে ভ্যাকসিন সহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ও সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করেছিলো ভারত। অন্যদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় ভারতের প্রতি সম্ভব সকল সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে জার্মানী।



তাছাড়া, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভারত এবং জার্মানী উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে বলে অভিমত দেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, “গত ০৭ বছরে ১২ বার সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জার্মান চ্যান্সেলর। এছাড়াও, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, ভার্চুয়াল সামিট আয়োজনের মাধ্যমে সবসময় অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে দুই দেশ।”