২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক অভিযানের রেকর্ডগুলো সংকলিত হয়ে গেলে ভারতের ন্যাশনাল আর্কাইভে স্থানান্তর করা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক দু দশকেরও পুরোনো যুদ্ধ এবং অন্যান্য সামরিক অভিযানের তথ্য প্রকাশ, সংকলন এবং প্রকাশনার মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।



নীতিমালাটি অনুমোদনের ফলে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমন্বিত প্রতিরক্ষা কর্মী, আসাম রাইফেলস, ভারতীয় উপকূল রক্ষীগণ সহ সকল দপ্তর নিজেদের তত্ত্বাবধানে থাকা যাবতীয় তথ্যাদি যেমন, যুদ্ধের ডায়েরি, প্রাত্যহিক চিঠিপত্র, অভিযানের রেকর্ড সহ সবকিছু সঠিক সংকলণ এবং সংরক্ষণের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস বিভাগের নিকট হস্তান্তর করবে।



এটি অনুমোদিত হওয়ার ফলে পাবলিক রেকর্ড আইন-১৯৯৩ এবং পাবলিক রেকর্ড বিধিমালা-১৯৯৭ মান্যতা পেলো। এই দুটো অধ্যাদেশ অনুসারে ২৫ বছরের মধ্যে যেকোনো রেকর্ড জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।



রাজনাথের অনুমোদনের ফলে এখন থেকে যুদ্ধ এবং অন্যান্য অভিযানের ইতিহাস সংকলনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের নেতৃত্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেখানে প্রয়োজন পূর্বক বিশিষ্ট সামরিক ঐতিহাসিকদেরও অন্তর্ভূক্ত করা যাবে।



অনুমোদিত নীতিমালা অনুসারে, যুদ্ধ এবং অভিযানের ইতিহাস সংকলনের জন্যেও সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধ কিংবা অভিযান শেষ হওয়ার দু বছরের মধ্যে উপরোক্ত কমিটি গঠন করতে এবং তিন বছরের মধ্যে যাবতীয় রেকর্ড সংগ্রহ এবং সংকলণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উক্ত নীতিমালায়।



উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে, কার্গিল রিভিউ কমিটির প্রধান কে সুব্রহ্মণ্যম এবং এন এন ভোহরা কমিটি কর্তৃক যুদ্ধের রেকর্ড প্রকাশ, সংকলণ এবং সংরক্ষণের বিষয়ে সরকারের নিকট সুপারিশ করা হয়, যেনো সেগুলো বিশ্লেষণ এবং পর্যালোচনা পূর্বক ভবিষ্যতের ভুল রোধ করা যায়।



ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের ইতিহাস সময় মতো প্রকাশ করতে পারলে জনগণকে যেকোনো পরিস্থিতির প্রকৃত তথ্য, বিবরণ, গবেষণার জন্য খাঁটি উপাদান সরবরাহ করা যাবে, পাশাপাশি যেকোনো প্রকার ভিত্তিহীন গুজব মোকাবেলাতেও এটি কাজে আসবে।