এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই মন্তব্য করলেন, যখন ‘হট স্প্রিংস’ এবং ‘গোগড়া পোস্ট’ অঞ্চলে চীন ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সমাবেশ অব্যহত রেখেছে।

ভারত গোটা বিশ্বে শান্তির দূত, কিন্তু প্রয়োজনে যেকোনো আগ্রাসনের মোক্ষম জবাব দিতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই মন্তব্য করলেন, যখন ‘হট স্প্রিংস’ এবং ‘গোগড়া পোস্ট’ অঞ্চলে চীন ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সমাবেশ অব্যহত রেখেছে।



১৭ জুন, বৃহস্পতিবার, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সীমান্তে ব্রোডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও) কর্তৃক নির্মিত ১২ টি রাস্তা উদ্বোধনের প্রাক্কালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর মাঝে ১০ টি রাস্তা অরুণাচল প্রদেশে এবং লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীরে একটি করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।



নতুন নির্মিত হওয়া রাস্তাগুলো দেশের জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “এই সড়কগুলো আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্তে সেনাবাহিনীর দ্রুত চলাচল সহজ করবে।”



উল্লেখ্য, গত বছর সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ভারত এবং চীন। সেই সংঘাতে প্রায় ২০ জন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী প্রাণ হারান। তারপর থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গত বছর থেকে কয়েক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা করে চলেছে দেশ দুটো। এর প্রেক্ষিতে দক্ষিণ এবং উত্তর প্যানগং থেকে উভয় পক্ষ সৈন্য প্রত্যাহার করলেও অন্যান্য অঞ্চল থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে চীন। নিজের বক্তব্য প্রদানকালে শহীদ হওয়া ভারতীয় জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।



নিজ বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “এই অঞ্চলটি তাঁর সাংস্কৃতিক এবং নান্দনিক বৈশিষ্ট্যের জন্য সারাদেশেই বিখ্যাত। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে এখানে যেমন বিকাশ হওয়া দরকার ছিলো, তা ঘটেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে অত্র অঞ্চলের মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও সম্পূর্ণ পূরণ হয়নি। তবে নরেন্দ্র মোদী সরকার এই অঞ্চলে পরিবর্তন আনছে।”



প্রসঙ্গত, কৌশলগত দিক থেকে ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের গুরুত্ব ভীষণ। পাঁচটি দেশের সঙ্গে ভারতের সীমানা ভাগ করে অঞ্চলটি। দেশ গুলো হলোঃ বাংলাদেশ, ভূটান, মায়ানমার, নেপাল এবং চীন।



২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে অঞ্চলটির বিকাশে বিশেষভাবে নজর দেয় সরকার। সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিআরও বিগত ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৪৮০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছে এখানে।