শ্রিংলার মতে, ভারতকে অবশ্যই এমন অবস্থান তৈরী করতে হবে যা আসন্ন বিশ্ব ব্যবস্থায় নেতৃত্বদানের পথ সুগম করবে।

চীনের উত্থান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতকে শীর্ষে আসীন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গত ১৮ জুন, শুক্রবার, পাবলিক এফেয়ার্স ফোরাম অফ ইন্ডিয়া (পিএএফআই) কর্তৃক আয়োজিত “করোনা উত্তর পৃথিবীতে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি: দুর্বলতা এবং সুযোগ” -শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রিংলা বলেন, “আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করি, যেখানে কূটনৈতিক সম্পর্ক খুব দ্রুত স্থানান্তরিত হয়। এ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো এশিয়া বিশ্ব অর্থনীতির পরিচালকের আসনে আসীন হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধোত্তর বিশ্বে যে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো গঠিত হয়েছিলো, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার পর তা এক তরফা যাত্রা করে। কিন্তু বর্তমানে এটির রূপকাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে।”

এসময় চীনের উত্থান ভারতকে ভূরাজনৈতিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় আসনে উন্নীত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে, নয়াদিল্লী সীমান্তে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমীকরণে চীন দ্বারা কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে শ্রিংলা আরও বলেন, “সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আরও অনেক প্রথাগত নিরাপত্তা হুমকির মতো চ্যালেঞ্জগুলো অব্যহত রয়েছে। বিশ্বে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভব এবং নিত্য নতুন রাজনৈতিক পরিকাঠামো তৈরী হচ্ছে। পুরোনো হুমকির সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সম্মিলনের মাধ্যমে বর্তমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ নতুন এক রঙ লাভ করেছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে শ্রিংলা বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তাছাড়া, ভারত-ইইউ নেতৃত্বের বৈঠক, প্রথম কোয়াড সামিট, জলবায়ু সম্পর্কিত শীর্ষ সম্মেলন সব জায়গাতেই ভারত ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়েছে। তাছাড়া, বহির্বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গেও্ নিয়মিত ভার্চুয়াল কূটনীতির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।”

জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে শ্রিংলা নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আমরা বর্তমানে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তাঁর মধ্যে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ। ভারত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট হুমকির প্রধান ভূক্তভোগী দেশ গুলোর একটি। আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা নিয়মিত বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। যার মধ্যে, বনায়ন, ব্লু ইকোনোমি, সোলার এনার্জি জোট, নৌ রুটে যোগাযোগ বৃদ্ধি, দুর্যোগ প্রতিরোধ অবকাঠামো গঠন, জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার্থে উদ্যোগ অন্যতম।

সবশেষ নিজের বক্তব্যে শ্রিংলা বলেন, ভারত বিশ্ব ব্যবস্থায় গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে।