জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মায়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে দেশটিতে চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিগত পাঁচ মাসে প্রায় ১০ হাজার শরণার্থী ভারত এবং থাইল্যান্ডে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গনার। এছাড়াও, অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতায় মায়ানমারে প্রায় পৌনে দুই লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেও পরিষদকে অবহিত করেন তিনি।



গত ১৮ জুন, শুক্রবার, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মায়ানমারের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ এবং ‘সীমাহীন খারাপ’ বলে আখ্যা দেন তিনি। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারীতে সামরিক অভ্যুত্থান এর পর সেখানকার রাষ্ট্রপতি ইউ উইন মিন এবং গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সূচী সহ মায়ানমারে প্রায় ৬০০০ হাজার মানুষকে আটক এবং ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি, প্রায় ১০০ জন সাধারণ নাগরিককে গুম করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



নিজ বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত বলেন, “সেখানে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিদ্যমান। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। খাদ্য সুরক্ষাও হুমকির মুখে। নিরাপত্তা পরিষদকে সময়োপযোগী এবং সাহসী পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।”



ক্রিস্টিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী বছর নাগাদ দেশটিতে প্রায় অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করবে।”



উল্লেখ্য, গত শুক্রবার, মায়ানমারে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। একইসঙ্গে সংস্থাটি সামরিক বাহিনীর প্রতি নভেম্বরের নির্বাচনের ফল মেনে নিতে এবং অং সান সু চিসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।



ওই প্রস্তাবের পক্ষে সাধারণ পরিষদে ১১৯টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে। একমাত্র দেশ হিসেবে এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে বেলারুশ। ভোটদানে বিরত থেকেছে ভারত, রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশসহ ৩৬টি দেশ।



পরবর্তীতে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস ত্রিমুর্তী বলেন, “পাশ হওয়া প্রস্তাবটিতে আমাদের দর্শন এবং মতামত পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাই ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিলো ভারত।”



শান্তিপূর্ণভাবে সমস্ত বিরোধ সমাধানের আহবান জানায় ভারত।