ট্রুডো বলেছেন, চীন মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর করা নির্যাতনের অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর জনগোষ্ঠীর প্রতি দেশটির সরকারের দমন নীতির স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহবান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর করা নির্যাতনের অভিযোগ আড়ালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



সম্প্রতি কানাডার আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি সরকারের নীতির সুষ্ঠু তদন্তের আহবান জানায় চীন এবং এর মিত্র দেশগুলো। এর প্রেক্ষিতে ট্রুডো বলেন, কানাডা চীনের মতো নয়। চীন সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেটি আড়ালের চেষ্টা চালাচ্ছে।



তাছাড়া, কানাডার সকল সম্প্রদায়ের হালহকিকত প্রকাশের জন্য ২০১৫ সাল থেকে একটি ‘সত্য এবং পুনর্মিলন কমিশন’ চালু রয়েছে বলে জানান ট্রুডো। এটি নিজেদের সমস্ত অনুসন্ধান জনসম্মুখে হুবহু প্রকাশ করেছে বলেও জানান কানাডার প্রধানমন্ত্রী। এসময় চীনের এ ধরণের মানবিক উদ্যোগ কোথায়, সে প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি।



উল্লেখ্য, চীন এবং কানাডার এ ধরণের বিরোধের শুরু হয় গত মঙ্গলবার, জেনেভাতে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বৈঠকে। সেদিন কানাডা সহ ৪০ টি দেশের সরকার জিনজিয়াং এ সুষ্ঠু তদন্ত করতে দেয়ার জন্য চীনের প্রতি আহবান জানায়। এর প্রেক্ষিতে কানাডার প্রতি নিজেদের ঘর সামলানোর আহবান জানায় চীন।



বিশ্ব সম্প্রদায়ের নেতৃত্বের একাংশ দাবি করেন উইঘুরে প্রায় এক মিলিয়ন জনসংখ্যার উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে চীন। কিন্তু চীন বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।



জানা যায়, উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চীন জোর পূর্বক জন্ম নিয়ন্ত্রণ, গণ নির্বীজন, জোরপূর্বক গর্ভপাত সহ নানা ধরণের অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।



নিজের বক্তব্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো চীনকে নিজেদের পরিস্কার অবস্থান জানানোর আহবান জানিয়েছেন এবং স্বচ্ছতার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “কানাডা সর্বদাই উন্মুক্ততা দেখিয়েছে। কানাডা সর্বদা অতীত ভুলগুলোর দায় স্বীকার করেছে। কিন্তু বর্তমানে কানাডা কোনো ভুল করছে না। কানাডার সকল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সকলের সম্পর্ক খুবই ভালো। হাজার হাজার আদিবাসি বাচ্চা স্কুলে পড়াশুনা করছে। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সহ সকল মৌলিক সুবিধা সর্বত্র পৌছে দেয়া হচ্ছে। আমরা একটি দীর্ঘ যাত্রায় একই সওয়ারে শামিল।”