ভারত-চীন ইস্যু কোয়াডে আলোচনার অংশ নয় বলে জানিয়েছেন জয়শঙ্কর

সীমান্তে শান্তিরক্ষায় প্রতিশ্রুত অঙ্গীকার গুলোর বাস্তবায়ন চীনের স্বদিচ্ছার উপর নির্ভর করছে বলে অভিমত দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাছাড়া, ভারত-চীন ইস্যু কোয়াডে আলোচনার অংশ নয় বলেও জানান মন্ত্রী। কাতার অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য প্রদানকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি।



জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত-চীন সম্পর্ক অনেক দিক থেকেই অস্বস্তিতে রয়েছে, যা কোয়াড থেকে সম্পূর্ণই স্বতন্ত্র। আমরা বর্তমানে দুটো বড় সমস্যার মুখোমুখি। প্রথমটি অবশ্যই, সীমান্তে এখনও সেনা মোতায়েন রয়েছে, বিশেষ করে লাদাখে। সেখানে শান্তিরক্ষায় আমরা যে লিখিত অঙ্গীকার করেছিলাম, চীন তা বাস্তবায়ন করবে কী না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহান। অন্যদিকে, দ্বিতীয় এবং বড় সমস্যাটি হচ্ছে, আমরা ভারত-চীন- দু দেশের মধ্যে পারস্পরিক সংবেদনশীলতা, শ্রদ্ধা, আস্থা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবো কী না!”



কোয়াড নিয়ে বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কোয়াড চারটি দেশকে একটি নির্দিষ্ট সাধারণ এজেন্ডার মাধ্যমে একত্রিত করেছে। এর মধ্যে সামুদ্রিক সুরক্ষা, সংযোগ এবং ভ্যাকসিন কূটনীতি অন্তর্গত। কোয়াডের নিজস্ব এজেন্ডা এবং কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে। কোয়াড নিজেদের বৈঠকে বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে মত বিনিময় করে থাকে।”



এসময়, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে চীনের প্রতি জি-৭ এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত জি-৭ এর মতামত গুলোকে নির্ভরযোগ্য এবং গুরত্ব সহকারে দেখে।



তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্য ক্ষেত্রে সাপ্লাই চেইনের মতো ইস্যুতে আমরাও জি-৭ এর সাথে নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিই। তবে বর্তমানে আমরা উপলব্ধি করি যে, আমরা আমাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পূর্বক সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখতে পারি। এর প্রেক্ষিতেই ভারতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘প্রোডাকশন লিঙ্কড ইন্সেনটিভ’ (পিএলআই) স্কিম চালু করেছে, যার মাধ্যমে ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



অনুষ্ঠানে চীনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিপরীতে জি-৭ এর বিল্ড ব্যাক বেটার ওয়ার্ল্ড উদ্যোগে ভারতের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীব্যাপী জাতিসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্পর্কের হিসেবে ভারতের নিজস্ব ইতিহাস এবং ঐতিহ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬২ টি দেশে ভারতীয় নানা প্রকল্প পরিচালনাধীন।”



তবে ভারত আদর্শ এবং লক্ষ্যের সমতার ভিত্তিতে আমরা জি-৭ এর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ইতোমধ্যে যেমনটি বলেছি, আমাদের কাছে ইতোমধ্যে অনেক গুলো প্রকল্প বিদ্যমান রয়েছে। তবে আসন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা আরও অনেক কাজ করার ধারা অব্যহত রাখবো।”



ভ্যাকসিন সম্পর্কিত পৃথক একটি প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ভারত নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপকে এগিয়ে আসতে হবে।”