সাম্প্রতিককালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ভারতের জন্য ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিমত দিয়েছেন রিভা গাঙ্গুলী দাস

সমৃদ্ধ ও উন্নত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়তে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের সচিব (পূর্ব) রিভা গাঙ্গুলী দাস।



তিনি বলেন, “সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার জন্যে প্রয়োজনীয় লক্ষ্য সমূহ উপলব্ধি করতে পারস্পরিক সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে আমাদের নীতি ও কার্যক্রম ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষিত ভারতের পূর্ব-নীতি ও মতবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।”



আজ কলকাতার অস্ট্রেলিয়ান কনস্যুলেট জেনারেল এবং এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত এক ওয়েবিনারে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। নিজ বক্তব্যে রিভা আরও বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত বাণিজ্য, পর্যটন, উত্তর-পূর্বের সম্ভাবনা সংযোগ, সর্বোপরি আঞ্চলিক সংযোগ ঘিরেই আবর্তিত।”



এসবের পাশাপাশি, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে গোটা দেশের পররাষ্ট্রনীতির দুটো মূল স্তম্ভের সংযোগকারী হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) বলেন, ‘ভারতের উত্তর-পূর্ব দিক হচ্ছে পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে আমাদের প্রবেশদ্বার। এটি এমন এক অঞ্চল যেখানে ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতি এবং পূর্বাঞ্চলীয় আইন একীভূত হয়।”



সাম্প্রতিককালে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ভারতের জন্য ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে এসময় অভিমত দেন রিভা গাঙ্গুলী দাস। তিনি বলেন, “আমাদের বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের সঙ্গে জড়িত। যেমন, গত বছরও আশিয়ানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিলো প্রায় ৮৭ বিলিয়ন ডলার। চীনের সাথে ৮২ বিলিয়ন ডলার। জাপান এবং কোরিয়ার সঙ্গে ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার।”



ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান ও উদ্যোগের জানান দিতে এসময় ‘ইন্দো প্যাসিফিক ওশান ইনিশিয়েটিভ (আইপিওআই)’ এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিভা গাঙ্গুলী দাস। তিনি বলেন, “অঞ্চলটিতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখন্ডতা এবং সমস্ত জাতির সমতা সমুন্নত রাখতে বদ্ধ পরিকর ভারত।”



এছাড়াও, ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটির অন্য প্রতিবেশীদের যোগাযোগ এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলে এদিন মন্তব্য করেন রিভা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মহাসড়ক, রেলপথ নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বিমানবন্দর স্থাপন, সেসবের উন্নতি করণ সহ সার্বিক কার্যক্রমে সে সম্পর্ক প্রতিফলন ঘটছে বলেও অভিমত দেন তিনি।



রিভা আরও জানান, এই অঞ্চলটিতে ভারত কর্তৃক গৃহীত প্রকল্প সমূহের মধ্যে রয়েছে, কালদান প্রকল্প, উত্তর-পূর্ব ভারতে পূর্ব-পশ্চিম করিডোর এবং থাইল্যান্ডের সাথে সংযুক্ত, মিয়ানমারের রি-ত্রিদিম সড়ক, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব পাইপলাইন নির্মাণ, নেপালের সাথে বিরাটনগর ইন্টিগ্রেটেড চেক পোষ্ট, নেপালে সড়ক প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৬৫ পূর্ব রেল লাইন পুনরুদ্ধার সহ প্রভৃতি।



এছাড়াও, অন্যান্য গুরুতপূর্ণ মিত্র রাষ্ট্র সমূহের সঙ্গে অবকাঠামোগত কিংবা কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নতির কথা তুলে ধরেন রিভা।