এমন এক সময়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন মাত্র কিছুদিন পূর্বেই প্রায় ৩০ বছর পর কোনো চীনা রাষ্ট্রপতি তিব্বত সফরে গিয়েছিলেন।

দুদিনের ভারত সফরে এসে তিব্বতের ধর্ম গুরু দালাই লামার প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ২৮ জুলাই, বুধবার, দালাই লামার প্রাক্তন সহযোগী গেশে দরজি দামদুলের সঙ্গে প্রায় দশ মিনিট ধরে আলোচনা হয় ব্লিংকেনের।



এদিন দামদুল ছাড়াও নাগরিক সমাজের অন্যান্য বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরবর্তীতে নিজের অফিশিয়াল টুইটার একাউন্টে উক্ত বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।



ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকে তিব্বতি সরকারের হয়ে দালাই লামার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকায় চটতে পারে চীন। উল্লেখ্য, তিব্বতকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে বেইজিং।



এমন এক সময়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন মাত্র কিছুদিন পূর্বেই প্রায় ৩০ বছর পর কোনো চীনা রাষ্ট্রপতি তিব্বত সফরে গিয়েছিলেন। এই সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তিব্বতের সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এবং গোটা অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর পর্যালোচনা করেন।



প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে চীনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিব্বতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে এবং নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন জিনপিং। পাশাপাশি সেখানকার জনগোষ্ঠীর উপরও কড়া নজরদারি শুরু করান তিনি।



তিব্বতিদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা দমন করার অভিযোগে চীনকে প্রায়ই অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৫০ সালে চীনা সেনারা তিব্বতের দখল নেয়। ১৯৫৯ সালে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে সেখানে একাধিপত্য বিস্তার করে চীন।



সেই বিদ্রোহের পরই তিব্বতিদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দালাই লামা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং এখনও এখানেই রয়েছেন।