এটি ৬৫’র পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পঞ্চম রেলপথ হিসেবে পুনরায় চালু করা হলো।

৫৬ বছর পর চালু হলো বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে রেল যোগাযোগ। ০১ আগস্ট, রবিবার, বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে হলদিবাড়ী থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছায় পাথরবোঝাই ৪০টি ওয়াগনের মালবাহী ট্রেন। এর মধ্য দিয়ে, প্রথম দিনে বাংলাদেশ কাস্টমস প্রায় ২৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে।



ভারত থেকে এই রেলপথে ৫৬ বছর পর পণ্য আমদানির চিত্র দেখতে চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ী সীমান্তে শত শত মানুষ উপস্থিত হয়। পণ্যবাহী ট্রেনটিতে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের কর্মকর্তা নির্মল গোরামি, নরদ পোদ্দার, বিনোদ কুমার প্রমুখ বাংলাদেশে আসেন।



এ সময় ভারতীয় প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম, বিভাগীয় রেলের বাণিজ্য কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় লোকমোটিভ প্রকৌশলী আশিষ কুমার প্রমুখ।



মূলত, পণ্য পরিবহনে সময় ও ভাড়া উভয় দিক থেকে বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য দুই দেশের সরকার চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্তের রেলপথ পুনরায় চালু করেছে। এটি গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন।



প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরও ভারত ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে সাতটি রেলসংযোগ ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল এবং হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলপথটি ছিল এই পথগুলোর একটি। এটি ৬৫’র পাক-ভারত যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পঞ্চম রেলপথ হিসেবে পুনরায় চালু করা হলো।



বর্তমানে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলসংযোগ ছাড়াও, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও চারটি রেলপথ চালু আছে। এগুলো হচ্ছে পেট্রাপোল (ভারত)-বেনাপোল (বাংলাদেশ), গেদে (ভারত)-দর্শনা (বাংলাদেশ), সিংঘাবাদ (ভারত)-রোহনপুর (বাংলাদেশ) এবং রাধিকাপুর (ভারত)-বিরল (বাংলাদেশ)।



আরও জানা গিয়েছে, এই রেলপথ দিয়ে যেসব পণ্যদ্রব্য ভারত থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পাথর, বোল্ডার, খাদ্যশস্য, তাজা ফল, রাসায়নিক সার, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, লাইম স্টোন ও কাঠ।