নিজের বই ‘দ্য লং গেম: হাউ দ্য চায়নিজ নেগোসিয়েট উইথ ইন্ডিয়া’ তে এই দাবি করেছেন বিজয় গোখলে

ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি বাঁধাগ্রস্ত ও বাতিল করতে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-মার্কসবাদীর মতো বাম দলগুলোকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলো চীন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলে। নিজের বই ‘দ্য লং গেম: হাউ দ্য চায়নিজ নেগোসিয়েট উইথ ইন্ডিয়া’ তে এই দাবি করেন তিনি।



পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউজ ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত বইটিতে বলা হয়েছে, “চীন সর্বদাই ভারতে বাম দল গুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। করেছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-মার্কসিস্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠক বা চিকিৎসার জন্য চীনে যান। দু দেশের উভয় পক্ষ অবশ্যই সীমান্ত ও অন্যান্য বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণ জাতীয়তাবাদী ধারণা পোষণ করেন, তবে ভারত-মার্কিন উচ্চাভিলাষী পরমাণু চুক্তি সম্পর্কে চীন নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিলো।”



প্রসঙ্গত, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি বিষয়ক আলোচনা চলাকালীন (২০০৭-০৯) গোখলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পূর্ব এশিয়া) পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। ভারতের অন্যতম স্বনামধন্য ও সুপরিচিত চীনতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ এই কূটনীতিকের বইয়ে তখনকার চীনা নীতি উঠে এসেছে এভাবে, “এটা হতে পারে আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনা প্রবেশের প্রথম উদাহরণ, কিন্তু তাঁরা পর্দার আড়ালে থাকতে সতর্ক ছিলো।”



তিনি আরও বলেন, “এই সময়টায় চীন ভারতের প্রতি ১৯৯৮ সালে পরমাণু পরীক্ষার সময় তাদের নেওয়া অবস্থানের ঠিক বিপরীতে ছিল।”



এর পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে গোখলে বলেন, “১২৩ চুক্তির বিষয়ে এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের কাছ থেকে ভারত যে ক্লিনশিট চেয়েছিলো, সেসব বিষয়ে চীন কখনোই দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠকে আলোচনা করেনি এবং যখনই ভারত এই বিষয়ে কথা উত্থাপন করেছে, খুব আলোচনা হয়েছে এর উপর।”



তবে গোখলের এসব দাবি অস্বীকার করে তৎকালীন সিপিআই-এম সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ করাত বলেছেন, “পারমাণবিক চুক্তির প্রতি আমাদের বিরোধীতার মূল কারণ ছিলো সেটি ভারত-মার্কিন কৌশলগত জোটকে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ধাবিত করছিলো। আমরা বেশ বুঝতে পারছিলাম যে, চুক্তিটি কৌশলগতভাবে আমাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল করে তুলবে।”



এসময়, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে চীনের সঙ্গে তাঁর কিংবা অন্য যেকোনো বাম নেতার যেকোনো প্রকারের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।



গোখলের প্রকাশিত বই ‘দ্য লং গেম: হাউ দ্য চায়নিজ নেগোসিয়েট উইথ ইন্ডিয়া’ – তে মূলত ছয়টি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিগত ৭৫ বছরের ভারত-চীন সম্পর্কের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিব্বতকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া থেকে শুরু করে পোখরানে পরমাণু পরীক্ষা, সিকিম, ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসেবে মাসুদ আজহারের অন্তর্ভূক্তির মতো বিষয় গুলো রয়েছে।



উল্লেখ্য, গোখলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব। ভারতীয় ফরেন সার্ভিস অফিসার হিসেবে তিনি হংকং, হ্যানয়, বেইজিং এবং নিউইয়র্কে ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর ২০ জানুয়ারী, ২০১৬ থেকে ২১ অক্টোবর, ২০১৭ অবধি চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে নয়াদিল্লী ভিত্তিক একটি থিংক ট্যাঙ্ক কার্নেগী ইন্ডিয়ার একজন সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।