মহামারী চলাকালীন সময়েই ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ভারত

একটি স্থিতিশীল, শক্তিশালী, টেকসই এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক পৃথিবী গড়তে ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্যে লিভারেজিং ডিজিটালাইজেশনের উপর আরও মনযোগী হতে একমত হয়েছেন জি-২০ ভূক্ত দেশের মন্ত্রীগণ। এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাও আসে তাঁদের বৈঠকে।



গত বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট, ইতালির ট্রিয়েস্টে জি-২০ ভূক্ত দেশসমূহের ডিজিটাল মন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।



পরবর্তীতে সরকারী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, বৈঠকে সকলের উদ্দেশ্যে ভারতের ডিজিটালাইজেশনের গল্প তুলে ধরেন মন্ত্রী। ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তি এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের জন্য ২০১৫ সাল থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে গৃহীত নানা পদক্ষেপ ব্যখ্যা করেন তিনি। ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পাবলিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেমনঃ ডিজিটাল আধার কার্ড এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (ডিবিটি) মাধ্যমে মানুষের ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।


প্রসঙ্গত, মহামারী চলাকালীন সময়েই জি-২০ নেতাদের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে ভারত।



বৈঠকে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “বিগত কয়েক বছরে প্রায় ১.২৯ বিলিয়ন মানুষকে ডিজিটাল আধার কার্ড প্রদান, ৪৩০ মিলিয়ন গরীব মানুষের ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং দুটোকে সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (ডিবিটি) এর আওতায় নিয়ে আসার ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে, ভোগান্তি কমেছে। বর্তমানে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মানুষ এক বা একাধিক স্কিমের আওতায় সুবিধা ভোগ করছেন। এই ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তি শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নই বৃদ্ধি করেনি, পাশাপাশি প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে সাহায্য করেছে।”



মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রযুক্তি সবসময় ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তির জন্যে ব্যবহৃত হওয়া উচিৎ, ডিজিটাল বিভাজনের জন্যে নয়। ভারত সবসময়ই ডিজিটাল অর্থনীতির উপর গুরুত্বারোপ করে এসেছে। এটি সামাজিক অন্তর্ভূক্তি মূলক ব্যবস্থার জন্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।”



বৈঠকে ভারতের হয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার রাজ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর। তিনি জি-২০ নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সংযোগ সহ শক্তিশালী এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রাপ্যতার জন্য ভারতের মডেল উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি, আধার কার্ডের ডিজিটালাইজেশন এবং এর সুবিধা সমূহের প্রতিও আলোকপাত করেন তিনি।


বিশ্বের ইতিহাসে যেকোনো সময়ের চেয়ে করোনাকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তি এবং ডিজিটালাইজেশনের উপর জোর দেয়া হয়েছে বলে অভিমত দেন তিনি। তারপরও, মহামারীতে সাধারণভাবে মানবসভ্যতার জীবন, জীবিকা এবং অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে মন্তব্য করে চন্দ্রশেখর বলেন, জি-২০ ভূক্ত দেশগুলোর উচিৎ বিনামূল্যে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত ইন্টারনেটে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা, যেনো সবাই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।