বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার জন্যে সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অধিবেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী মোদী।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো সভাপতিত্ব করলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ০৯ আগস্ট, সোমবার, ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত 'আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য সমুদ্র নিরাপত্তা বৃদ্ধি' -শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন তিনি।



এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সমুদ্র সুরক্ষা নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চ স্তরে কোনো বৈঠক আয়োজিত হলো। গোটা আয়োজনটিকেই ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করেছে ভারত। চলতি আগস্ট মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করছে ভারত। তখনই জানা গিয়েছিলো প্রথমবারের মতো সমুদ্র সুরক্ষার বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে দেশটি।



প্রথমবারের মতো 'সমুদ্র নিরাপত্তা' নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চ স্তরে আয়োজিত এই সভায় সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বৃদ্ধির উপর বাড়তি জোর দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে সামুদ্রিক দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নেয়ার জন্যে একটি পাঁচ দফা প্রস্তাবও পেশ করেন তিনি।



পরবর্তীতে এক টুইট বার্তায় গোটা বিষয়টি তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি। তিনি বলেন, “প্রথমবারের মতো কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অধিবেশনে সভাপতিত্ব করলেন। বৈঠকটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সন্ধিক্ষণ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান বা তাঁদের প্রতিনিধিগণ।”



তিরুমূর্তি আরও বলেন, এই অঞ্চলে সবার জন্য নিরাপত্তা এবং সহাবস্থান নিশ্চিতকল্পে ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদী সমুদ্র নিরাপত্তার উদ্যোগকে সামনে রেখেছিলেন।



সমুদ্রপথে শান্তি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে যে পাঁচটি মূলনীতির প্রস্তাব করেছেন মোদী, সেগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় তিনি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বাঁধা দূর করার আর্জি জানান। তিনি বলেন, “সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের সমস্ত বাঁধা তুলে দেওয়া উচিত। সমুদ্রপথে কতটা সক্রিয়ভাবে বাণিজ্য হচ্ছে, তার উপর আমাদের সমৃদ্ধি এবং উন্নতি নির্ভরশীল। সেই ক্ষেত্রে কোনও বাধা তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ধাক্কা খাবে। অবাধ সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রাচীনকাল থেকে ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”



দ্বিতীয় দফায় মোদী বলেন, সমুদ্র পথের বিরোধ গুলো শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, “আলোচনা করে, মতৈক্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে জলসীমা সংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে নিয়েছে ভারত। আলোচনার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বাঁধা দূর করতে হবে। বিরোধ মেটাতে হবে। তাহলেই আন্তর্জাতিক সমৃদ্ধি আসবে।”



প্রস্তাবের তৃতীয় মূলনীতিতে মোদী আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সব দেশের প্রতি আর্জি জানান। তিনি বলেন, “পারস্পরিক ভরসা এবং বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র এ পথেই আমরা বিশ্বে শান্তি এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারবো।”



চতুর্থ দফায় মোদী বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশ এবং সম্পদকেও সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে, জলদস্যু মোকাবেলা ও সমুদ্র পথের অপব্যবহার রোধের আহবান জানান তিনি। সর্বশেষ পঞ্চম দফায় তিনি প্রস্তাব করেন যেনো সমুদ্র বাণিজ্য বৃদ্ধিকল্পে এবং যোগাযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।



বৈঠকের শেষে গঠনমূলক আলোচনার জন্যে সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন অধিবেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী মোদী।



উল্লেখ্য, মোদীর সভাপতিত্বে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন, কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনায়াট্টা-সহ বিশ্বনেতারা।