বর্তমানে আফগানিস্তানে প্রায় ১৫০০ ভারতীয় নাগরিক অবস্থান করছেন।

ভারতীয়দের অবিলম্বে আফগানিস্তান ছাড়ার পরামর্শ দিল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। ১০ আগস্ট, মঙ্গলবার, আফগানিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, উত্তর আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের রাজধানী মাজার-ই-শরিফ শহর ও তার আশপাশে থাকা ভারতীয়রা যেনো বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে উঠে পড়েন। মঙ্গলবার রাতেই সেই বিশেষ ফ্লাইট ভারতে ফিরবে।

বর্তমানে আফগান সেনাদের সঙ্গে তালিবানদের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছেছে। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাই ভারতীয়দের নাগরিকদের দ্রুত আফগানিস্তান ছাড়তে বলা হয়েছে। এর আগে আফগানিস্তানে থাকা নিজেদের নাগরিকদের উদ্দেশে একই পরামর্শ দিয়েছিল আমেরিকা।

জানা গিয়েছে, মাজার-ই-শরিফের ভারতীয় দূতাবাসে যে কর্মীরা রয়েছেন, তাঁরাও এই বিশেষ বিমানেই দেশে ফিরে আসবেন। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানের কান্দাহার, মাজার-ই-শরিফ, জালালাবাদ এবং হেরাতের চারটি দূতাবাসে আর কোনও ভারতীয় থাকবেন না। তবে ভারতের কাবুল দূতাবাস খোলা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। ইতোপূর্বে, সাবধানতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঠিক এক মাস আগে, ১০ জুলাই কান্দাহার কনস্যুলেট বন্ধ করে প্রায় ৫০ জন ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

মঙ্গলবার একটি সতর্কবার্তা জারি করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসার বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা সম্পর্কে নিয়মিত যেনো তাঁরা তথ্য রাখেন, যাতে বিমান পরিষেবা প্রভাবিত হওয়ার আগেই সুযোগ পাওয়া মাত্র, দ্রুত ভারতীয়রা দেশে ফিরে আসতে পারেন।


বিশেষ বিমানে ফিরতে ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের নাম, পাসপোর্ট নাম্বার সহ যাবতীয় তথ্যাদি 0785891303 এবং 0785891301 -নাম্বার গুলোতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।

তালিবানদের তরফে সোমবারই জানানো হয়েছে, তারা মাজার-ই-শরিফ শহর দখলের অভিযান শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই মাজার-ই-শরিফের পশ্চিম দিকে শেবেরঘান এবং পূর্ব প্রান্তে কুন্দুজ ও তালুকান অঞ্চল দখল করে ফেলেছে তালিবানরা। আফগানিস্তানের উত্তরে অন্যতম বড় শহর মাজার-ই-শরিফ। এই শহর দখলে থাকায় গোটা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিল আফগান সরকার।

আফগানিস্তানে ভারতীয় মালিকানায় পরিচালিত কোম্পানী গুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তাঁরা যেনো নিজেদের কর্মীদের অবিলম্বে আফগান প্রকল্প থেকে সরিয়ে নেয়ার বন্দোবস্ত করেন।

মে মাস থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করার পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে তালিবানরা। এ মাসের মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে। মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়লেই যে তালিবানরা ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে, মার্কিন গোয়েন্দাদের তরফেই সেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে আফগান সরকারের নেতৃত্বেই তালিবানদের সঙ্গে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে সমর্থন করছে ভারত সরকারও।