আইবিএসএ ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতাধীন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিং।

গ্লোবাল সাউথ তথা দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের রাষ্ট্র গুলোর সঙ্গে ভারতের মেলবন্ধন সার্বিকভাবে সকলের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিং। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র গুলোর আন্তঃসম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতাবিধান, শর্তহীন মিত্রতা এবং মৌলিক কাঠামোয় হস্তক্ষেপ না করার মতো বিষয়গুলো সামনে রেখে এগোনোর উপর জোর দেন তিনি।



ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসিত থিংক ট্যাঙ্ক রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (আরআইএস) এর উদ্যোগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজন করা দুদিন ব্যাপী (১১ এবং ১২ আগস্ট) ৭ম আইবিএসএ (ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা) একাডেমিক ফোরামের উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী রাজকুমার রঞ্জন সিং।



তিনি আরও বলেন, “ভারত, ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের গণতান্ত্রিক আদর্শের অনুশীলনের জন্যে পারস্পরিকভাবে একতাবদ্ধ হতে পেরেছে। ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে আমাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন সহ বহুপাক্ষিক সব সংস্থায় সংস্কারের জন্যে আমরা একত্রে চেষ্টা করে যাচ্ছি।”



বক্তৃতাকালে চলমান আইবিএসএ ফেলোশিপ প্রোগ্রামের প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী। পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ধারা অব্যহত রাখতে ও এগিয়ে নিতে এই কার্যক্রমটির অবিস্মরণীয় অবদান স্মরণ করেন তিনি। আইবিএসএ তহবিল গঠনের পর থেকে ফেলোশিপ কার্যক্রমটি আরও গতিশীল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সার্বিকভাবে এটি একটি দক্ষিণাঞ্চলীয় উন্নয়ন মডেল হিসেবে এসডিজি অর্জনের দিকে ভূমিকা রাখছে বলেও অভিমত দেন প্রতিমন্ত্রী।



চলতি এই সম্মেলনে আইবিএসএ শেরপাদের মধ্যেও একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক একীকরণ, মহামারী পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা বিনির্মাণ এবং সবুজ রূপান্তর প্রক্রিয়াগুলো ত্বরান্বিত করার বিষয়ে কথা হবে বলে জানা গিয়েছে।



এবারের সম্মেলনে তিনটি সাময়িক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। সেগুলো যথাক্রমে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মহামারী পরবর্তী সময়ে করণীয়, বাণিজ্য ও স্থিতিস্থাপকতা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইবিএসএ সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি ও অন্তর্ভূক্তিমূলক খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে মহামারী পরবর্তী স্থিতিস্থাপকতা তৈরী।



প্রসঙ্গত, আইবিএসএ -এর বর্তমান চেয়ারম্যান ভারত। এটি পৃথিবীর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মহাদেশের তিনটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি সহযোগিতা জোট। ২০০৩ সালে ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবত একত্রে কাজ করে যাচ্ছে আইবিএসএ ফোরাম। বিশেষ করে পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে স্কিল ডেভেলপিং প্রোগ্রাম বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাঁরা।