আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের ৯টিই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

টানা চতুর্থ দিনের মতো “স্যাংশন পাকিস্তান” হ্যাশট্যাগে মুখরিত ভার্চুয়াল জগত। তালেবান জঙ্গীদের মদদদাতা হিসেবে পাকিস্তান কর্তৃক আফগানিস্তানে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরীর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আফগান সাধারণ জনগণ।

আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানের লড়াইয়ে পাকিস্তান তালেবানদের পক্ষ নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাকিস্তান বিরোধী এই প্রচারণা শুরু করেছে আফগানরা। আফগান ইস্যুতে হস্তক্ষেপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর থেকেই চরম অস্থীতিশীল হয়ে পড়েছে আফগানিস্তান। দেশটিতে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে আফগান সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের মধ্যে। এরই মধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ৯টিই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সর্বশেষ গজনি শহরে প্রবেশ করেছে তারা। সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তীব্র লড়াই চলছে।

এদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো স্যাংশন পাকিস্তান হ্যাশট্যাগে মুখরিত টুইটার। আজ দুপুর অবধি প্রায় ২ লক্ষ ২৮ হাজার বারের বেশি ট্রেন্ডিংটি পোস্ট করা হয়েছে। অনেকে পাকিস্তানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবানও জানিয়েছেন।

একইভাবে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন আফগান জনগণ। ফেসবুকে প্রায় অর্ধ মিলিয়নের বেশি পোস্ট করা হয়েছে হ্যাশট্যাগটি। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডে পরিণত করতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাবেক প্রতিবেদক হাবিব খান তোতাখিল।

চলতি এই ক্যাম্পেইনে ‘স্যাংশন পাকিস্তান’ ছাড়াও ‘স্টপ প্রক্সি ওয়ার’, ‘স্টপ সাপোর্টিং টেরোরিস্ট গ্রুপ’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন আফগান নাগরিকরা। আফগানিস্তানের ন্যাশনাল ডাইরেক্টরেট অফ সিকিউরিটি (এনডিএস) এর সাবেক পরিচালক রহমতউল্লাহ নাবিলও চলতি ট্রেন্ডে যোগ দিয়েছেন।

কিছুদিন পূর্বেই পাকিস্তানে আফগান রাষ্ট্রদূতের কন্যার অপহরনের ঘটনার পর থেকে আফগান-পাকিস্তান সম্পর্ক উত্তাল হয়ে উঠে। এর সূত্র ধরে ইসলামাবাদ থেকে নিজেদের কূটনীতিক প্রত্যাহার করে নেয় কাবুল। এছাড়াও, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মাধ্যমে পাকিস্তান কর্তৃক তালেবান জঙ্গীদের মদদ দানের অভিযোগ করেছেন আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ ঘানি এবং উপ-রাষ্ট্রপতি আমরুল্লাহ সালেহ।