পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে পদার্পণের মাধ্যমে শততম জয়ন্তীর জন্যে প্রস্তুতি আরম্ভ করতে হবে।”

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় ভারতীয় জনগণ একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং আধুনিক অর্থনীতির ভিত রচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।



১৪ আগস্ট, শনিবার, ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দিল্লীতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন (আইসিসিআর) কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারত সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘আজাদী কা অমৃত মহোৎসব’ উদ্বোধনের প্রাক্বালে এসব কথা বলেন তিনি।



জয়শঙ্কর বলেন, “এবারের ১৫ আগস্টে যখন লাল কেল্লায় তেরঙ্গা উড়বে, ঠিক সে মুহূর্তে আমরা একটি সভ্য জাতি হিসেবে ঐতিহাসিক এক মাইলফলক স্পর্শ করবো। এটি ভীষণভাবে উদযাপনের মুহূর্ত। এটি গৌরবময় মুহূর্ত। কিন্তু একই সঙ্গে এটি আমাদের দৃঢ় আত্মোপলব্ধি, একতাবদ্ধ এবং সংকল্পবদ্ধ হওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দিবে।”



মন্ত্রী আরও বলেন, “গত ৭৫ বছরে আমাদের জনগণ একটি প্রাণবন্ত এবং আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত রচনা করেছে। অর্থনীতি গতি লাভ করেছে। আমরা একটি উদ্যমী নাগরিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রদর্শিত হচ্ছে চারপাশে। আজ শ্রদ্ধা জানাই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীর প্রতি, যাদের বলিদানের ফলে আমরা এই মহান স্বাধীনতা পেয়েছি।”



বর্তমান বিশ্ব পরিক্রমা, বাস্তবতা, অর্থনীতির গতি এবং রাজনীতি পূর্বের তুলনায় বহুগুণ পরিবর্তন হয়েছে বলে দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন মন্ত্রী। সবাইকে পুরো উদ্যমের সাথে নতুনভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। নিজ বক্তব্যের এক পর্যায়ে জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদেরকে স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে পদার্পণের মাধ্যমে শততম জয়ন্তীর জন্যে প্রস্তুতি আরম্ভ করতে হবে।”



পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এটা অনিবার্য যে, গণতন্ত্র ভারতের যত গভীরে শেকড় গড়বে, আমাদের সমাজের প্রকৃত শক্তি ও কণ্ঠস্বর ততোই প্রকাশ পাবে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে সঙ্গে করে আমাদেরকে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পৃথিবীর বুকে তুলে ধরতে হবে। স্বাধীনতা দিবস আমাদেরকে আমাদের গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”



এসময় মহামারীকালীণ বিপদসংকুল পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদীর সুযোগ্য নেতৃত্বে মহামারী মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।”



সর্বোপরি নিজ বক্তব্যে ভারতকে একটি গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে বহুত্ববাদী সমাজ, উদ্ভাবনী অর্থনীতি এবং অতুলনীয় বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে দেখার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন জয়শঙ্কর।