আফগানিস্তানে সহিংসতা বন্ধে এবং সম্ভাব্য সঙ্কট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছে ভারত।

বিশ্বমঞ্চে আফগানিস্তান ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করলো ভারত। গত সোমবার, ১৬ আগস্ট, নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরী বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমুর্তি বলেন, “আফগানিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদের আখড়ায় পরিণত না হয়, যদি আফগান ভূখন্ড ব্যবহার করে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অন্য কোনো রাষ্ট্র বা জাতির উপর হামলা বা আক্রমণ না করে, তাহলে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী এবং গোটা অঞ্চলের সকল রাষ্ট্রের জন্যে তা স্বস্তির বিষয় হবে।”



চলমান আফগান ইস্যুতে ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকে তিরুমূর্তি আরও বলেন, “আমরা আফগানিস্তানে সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। সেখানে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি দেখে আমরা যারপরনাই শঙ্কিত। নারী ও শিশুরা বিপর্যস্ত। এয়ারপোর্টে এবং শহরেও গুলাগুলি চলছে। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানে পরিস্থিতি ভয়াবহ। সব মানুষের নাগরিক অধিকার বজায় রাখতে সকলকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে আফগানিস্তানে। আন্তর্জাতিক মহল নিজের দায়িত্ব পালন করুক। স্বার্থ এক্ষেত্রে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।”



ভারতীয় এই কূটনীতিক নিজ বক্তব্যে আফগান জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আমরা আফগানিস্তানের প্রতিবেশী এবং সেখানকার জনগণের বন্ধু হিসেবে সেখানের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানাচ্ছি। আফগান পুরুষ, নারী এবং শিশুরা এক দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে দিনাতিপাত করছে। তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে আমরা আশা করি শীঘ্রই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।”



বিগত বছরগুলোতে আফগানিস্তানের ৩৪ টি প্রদেশ জুড়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় ভারত উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে বলে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। তাই দেশটিতে বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে, গ্রহণযোগ্য ও বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করার আহবান জানান তিনি।



প্রসঙ্গত, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর থেকেই চরম অস্থীতিশীল হয়ে পড়েছে আফগানিস্তান। দেশটিতে তীব্র লড়াই শেষে কাবুল দখলে নিয়েছে তালেবান জঙ্গীরা। দেশ ছাড়তে ব্যকুল হয়ে পড়েছে সাধারণ আফগান জনগণ। পরিস্থিতি কখন কোনদিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার অপেক্ষায় এখন বিশ্ব।