চলতি আগস্ট মাসে নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা দেশটিও ভারত।

বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেয়া শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের সংযোজন আরও বাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শত্রুপক্ষের গতিশীলতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষীদের প্রযুক্তিগতভাবে আরও সমৃদ্ধ ও দক্ষহস্ত করার আহবান জানান তিনি।



গত ১৮ আগস্ট, বুধবার, নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়।



জয়শঙ্কর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর শান্তিরক্ষার বিষয়টি এমনভাবে সাজাতে হবে যেখানে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের সার্বিক ছোয়া থাকবে। জটিল পরিবেশে যা শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালনকে সহজ করে দিবে। তাই প্রযুক্তিগতভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধি ব্যতীত শান্তিরক্ষীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করার বিষয়টিও সহজ হবেনা।”



শান্তিরক্ষীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষমতা, নিরাপত্তা ও কর্মকান্ডকে সহজ করতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান তিনি। এজন্যে অ্যাকশন ফর পিসকিপিং -প্রতিপাদ্য ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।



এর আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলো, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে ১৮ আগস্টের বৈঠকে শান্তিরক্ষীদের জীবন রক্ষার্থে, নিরাপত্তা নিশ্চায়নে এবং তাঁরা যেনো তাঁদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে, সে উদ্দেশ্যে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামাদি সরবরাহের বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হতে চলেছে।



শান্তিরক্ষীদের শান্তিরক্ষা নিশ্চায়নের প্রস্তাব উত্থাপন সহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ভারত জাতিসংঘকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানায় তাঁরা। ‘ইউনাইট এওয়্যার’ নামে একটি সফটওয়্যার জাতিসংঘকে সরবরাহ করবে দেশটি। প্রাথমিকভাবে এই সফটওয়্যারটি মালি, দক্ষিণ সুদান, সাইপ্রাস এবং সোমালিয়াতে চলমান শান্তিমিশনে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উক্ত দেশগুলোতে বর্তমানে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।



উল্লেখ্য, ভারত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে এখনও অবধি সর্বোচ্চ অবদান রাখা রাষ্ট্র। বিগত কয়েক দশকে প্রায় অর্ধশত মিশনে ভারতের প্রায় আড়াই লক্ষ সৈন্য জাতিসংঘের পক্ষে লড়াই করেছে এবং প্রায় দু’শোর বেশি সেনা সদস্য শান্তিরক্ষায় শহীদ হয়েছেন। এখনও বিশ্বের প্রায় নয়টি দেশে জাতিসংঘের মিশনে ভারতের প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্য অবস্থান করছেন।



নিরাপত্তা রক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চায়নে জাতিসংঘে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন জয়শঙ্কর। প্রথম দফায় তিনি বলেন, জাতিসংঘকে অবশ্যই কার্যকর ভাবে প্রমাণিত, ব্যয় সাশ্রয়ী, ব্যাপকভাবে উপলব্ধ, নির্ভরযোগ্য এবং সেবাযোগ্য প্রযুক্তির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।



দ্বিতীয় দফায় তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশন গুলোতে একটি সঠিক তথ্য ও গোয়েন্দা ভিত্তি দরকার পড়বে, যা যেকোনো মাঠ পর্যায়ে মিশনে যাবার আগে প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করবে। প্রাথমিক সতর্কতার জন্যে এটি উপযুক্ত ভূমিকা রাখবে।



তৃতীয় দফায় জয়শঙ্কর বলেন, আমাদেরকে অবশ্যই প্রযুক্তিগত সাপ্লাই অব্যহত রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির উতকর্ষ সাধনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।



সর্বশেষ দফায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শান্তিরক্ষীদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সক্ষমতা, মনযোগ বৃদ্ধির জন্যে আমাদেরকে বিনিয়োগ করতে হবে।



এসব প্রস্তাব গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে আহবান জানান তিনি। উল্লেখ্য, চলতি যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি অন্য সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন জয়শঙ্কর।