পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা এবং কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা প্রদান ভারতের প্রধানতম অঙ্গীকার

আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠক করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ২৬ আগস্ট, বৃহস্পতিবার, বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় বৈঠকটি। সেখানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

বৈঠকের শুরুতেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনানুযায়ী বিরোধী নেতৃত্বের সামনে সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আফগানিস্তানের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয়দের আফগানিস্তান থেকে নিরাপদে দেশে ফেরাতে যেকোনো সাহায্য করবে নয়াদিল্লি।” অন্তত ১৫ হাজার মানুষ আফগানিস্তান ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ছাড়াও সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিতি ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সদস্য পীযুষ গয়াল ও সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। বৈঠকে বিরোধী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, তৃণমূল সংসদ সদস্য সৌগত রায়, এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার, কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে, লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সহ প্রায় ৩১ টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

আলোচনাকালে, আফগানিস্তানে সাধারণ জনমানুষের কল্যাণে প্রায় ৫০০’র বেশি উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি ভারতীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিলো বলেও জানান তিনি। সেসবের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়েও নেতাদের উদ্দেশ্যে ব্রীফ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি ইতোমধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলেও তথ্য দেন জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে ঘন ঘন গুলাগুলির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়াও, আফগানিস্তান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ বিমান চালু, ই-ভিসা চালু সহ গৃহীত নানা পরিষেবার বিষয়ে নেতাদের জানান তিনি। তাছাড়া, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অবস্থান সম্পর্কেও দেশবাসীকে ধারণা দেন জয়শঙ্কর।