নেপালের সঙ্গে গভীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুবাদে মহামারী মোকাবেলায় সম্ভব সব ধরণের সহায়তা করছে ভারত

করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশে থাকতে নেপালকে দেশে তৈরী উন্নত মেডিকেল অক্সিজেন প্ল্যান্ট উপহার দিলো ভারত। গত বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্ল্যান্টটি হস্তান্তর করে দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন।

৯৬০ এলপিএম সক্ষমতার অক্সিজেন প্ল্যান্টটি তৈরী করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। পরবর্তীতে দেশটির বি. পি. ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস -এ যন্ত্রটি পরীক্ষা পূর্বক ছাড়পত্র দেয়া হয়। জন প্রতি মিনিটে ৫ লিটার অক্সিজেন (এলপিএম) প্রদানের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে প্ল্যান্টটি। প্রায় ২০০ রোগীকে একই সঙ্গে সেবা প্রদান করার সক্ষমতা রয়েছে প্ল্যান্টটিতে।

গত বৃহস্পতিবার নেপালের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটির স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উমেশ শ্রেষ্ঠর কাছে প্ল্যান্টটি হস্তান্তর করেন নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াট্টা। পরে কাঠমুন্ডুস্থ ভারতীয় দূতাবাসের এক টুইটবার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে নিজের বক্তব্য প্রদানকালে দু দেশের মধ্যকার জনগণের গভীর এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের তাৎপর্য তুলে ধরেন কোয়াট্টা। একই সঙ্গে করোনা মহামারী মোকাবেলা সহ সার্বিক পরিস্থিতিতে ভারত নেপালের পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

নেপালকে এমন সুন্দর এবং উপকারী একটি বস্তু উপহার দেয়ায় দেশটির জনগণের পক্ষে ভারতের নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন দেশটির স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শ্রেষ্ঠ। এছাড়াও, আগত সময়ে দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর করার অঙ্গীকার এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মহামারী চলাকালে ভারত সার্বিকভাবে নেপালের পাশে থাকবে বলে অনুষ্ঠান পরবর্তী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দেশটিতে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। এছাড়াও, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) দ্বারা তৈরীকৃত অক্সিজেন প্ল্যান্টটির মাধ্যমে দেশেই স্বল্পমূল্যে মেডিকেল অক্সিজেন তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানায় তাঁরা।

উল্লেখ্য, যন্ত্রটি উদ্ভাবন করতে গিয়ে বিশ্বের মাত্র চতুর্থ দেশ হিসেবে বায়ুমণ্ডলীয় বায়ু থেকে সরাসরি অক্সিজেন উৎপন্ন করতে প্রেসার সুইং অ্যাডসর্পশন (পিএসএ) কৌশল এবং আণবিক চালনী প্রযুক্তি ব্যবহার করলো ভারত।