কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, উৎপাদন (ম্যানুফেকচারিং) গন্তব্যের দিক থেকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের ২য় স্থানে উঠে এসেছে

যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে দ্রুত আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। ২৮ আগস্ট, ২০২১, শনিবার, জৈন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যবসা ও বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনাকালে মন্ত্রী জানান, অদূর ভবিষ্যতে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যুক্ত করেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বার্থে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার খুঁজছে এবং নিঃসন্দেহে এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ভারতের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়।

উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ চাহিদা সম্পন্ন স্থান হওয়ার দৌড়ে ভারত এগিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, “উৎপাদন (ম্যানুফেকচারিং) গন্তব্যের দিক থেকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে বিশ্বের ২য় স্থানে উঠে এসেছে। আমরা প্রথম হওয়ার দৌড়ে রয়েছি। আমাদেরকে অবশ্যই নিজেদেরকে ট্রেডিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে গোটা বিশ্বই পণ্য কেনাবেচা করতে আসবে।”

ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্যকালে পীযূষ বলেন, “যদি দেশের নীতি নির্ধারকরা দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা এবং স্টার্ট আপের উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করে এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দেয়, ভারত আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারবে।”

দেশের ব্যবসায়ী শ্রেণী এবং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত সবার উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা সেই মানুষ, যাদের কর্মফলে সরকার দরিদ্র মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে পারে।” ধারাবাহিকভাবে ব্যবসায়ী বান্ধব ও উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী প্রণয়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের সুবিধাবঞ্চিত, নারী ও শিশুদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সার্বিক সম্ভাবনার উপর আস্থা রেখে জনশক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “সরকারী ও বেসরকারী খাতের মধ্যকার সমন্বয় দেশের মানুষের মধ্যে আস্থার তৈরী করেছে। বিদেশেও তা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। সরকার এবং ব্যবসায়ী শ্রেণীর মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা ১৩০ কোটি ভারতীয়র জীবন বদলে দিচ্ছে। গত ০৭ বছরে এই ভিত্তি মজবুত হয়েছে।”

দেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পীযূষ বলেন, “এফডিআই, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ, খাদ্যশস্য মজুদ, কৃষির উৎপাদন সহ সকল খাতই প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।”

আলোচনার এক পর্যায়ে ভারতকে অর্থনীতির শীর্ষে নেয়ার জন্য তিন ‘টি’ এর ব্যবহারে জোর দেন মন্ত্রী। সেগুলো যথাক্রমে, ‘ট্রাস্ট’, ‘টেনসিটি’, ট্রেডার। তবেই দেশ স্থিতিশীলতা, উৎপাদনমুখীতা, স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, জাতীয়তাবাদী চেতনা সহ সার্বিক ক্ষেত্রে বহু ধাপ এগিয়ে যাবে বলে অভিমত দেন তিনি।