প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না, ভারত বিরোধী যেকোনো শক্তি সন্ত্রাসবাদের জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করুক।”

আফগানিস্তানের সামগ্রিক উন্নয়ন নতুন করে নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ৩০ আগস্ট, সোমবার, ছত্তিশগড়ের প্রয়াত গভর্নর বলরামজি দাস ট্যান্ডনের স্মরণে চালু করা ‘বলরামজি দাস ট্যান্ডন বক্তৃতা সিরিজ’ এ ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানটিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, “ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আমরা চাই না ভারত বিরোধী যেকোনো শক্তি সন্ত্রাসবাদের জন্য আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করুক কিংবা সেখানকার পরিস্থিতি থেকে সুবিধা আদায় করে নিক। আমরা বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ পূর্বক দেখতে পাচ্ছি, নতুন করে নিরাপত্তা সঙ্কটে রয়েছে আফগানিস্তানের সামগ্রিক উন্নয়ন।”

আলোচনাকালে জম্মু ও কাশ্মীর ইস্যুতেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “খুব শীঘ্রই সন্ত্রাসমুক্ত হবে জম্মু ও কাশ্মীর। ইতোপূর্বে ৩৭০ এবং ৩৫ (ক) ধারা বলে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শক্তি বৃদ্ধির যে সুযোগ পেয়েছিলো, তা আমরা রহিত করেছি। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী তৎপর রয়েছে।”

বিগত সাত বছরের বিজেপি শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি সহ তাঁদের কাজের ব্যপ্তিও ভীষণ মাত্রায় বেড়েছে বলে দাবি করেন রাজনাথ। ফলস্বরূপ ভারতের অভ্যন্তরে তেমন কোনো বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

সম্প্রতি ভারতের সীমান্তে সেনা ক্যাম্প গুলোতে সন্ত্রাসীদের হামলার ব্যাপারে রাজনাথ বলেন, “নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো আপস করা হবেনা। সন্ত্রাসীদের গৃহীত সকল পদক্ষেপ কঠোরভাবে দমন করা হবে। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে কাশ্মীরেও সন্ত্রাসীরা দমে গিয়েছে।”

আলোচনাকালে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র ও গোয়েন্দা বাহিনী সমূহের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। জাতির স্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা সর্বদা সজাগ রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ৭৫ বছরে ভারতের স্থল এবং সমুদ্রসীমায় নানা ধরণের সন্ত্রাসী হামলা এবং চ্যালেঞ্জের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “বন্ধুর এক পথ অতিক্রম করে আমরা এসেছি। স্বাধীনতার পর থেকে ভারত বিরোধী শক্তিরা দেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে চেয়েছে। কেউ আবার সম্মুখ যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে প্রক্সি যুদ্ধের আশ্রয় নিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী অদম্য ভূমিকা রেখেছে বলেই আমরা এগিয়ে যাবার মন্ত্রণা পাচ্ছি। জাতীয় নিরাপত্তার যেকোনো ধরণের হুমকি একান্তই বরদাশত করা হবেনা।”

এসবের পাশাপাশি চীন সীমান্তে নিজেদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন রাজনাথ সিং। গালওয়ান সীমান্তে নিজেদের ভূমিকা এবং চীনের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়েও সবাইকে অবহিত করেন তিনি। এসময় সীমান্তে যেকোনো ধরণের সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহবান এবং আশ্বাস দেন তিনি।

রাজনাথ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সীমান্ত, সম্মান এবং ভবিষ্যতের বিষয়ে কখনোই আপোষ করবেনা।” এসময় সরকার কর্তৃক দেশের সীমান্ত এলাকা গুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প সমূহের বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। এর সূত্র ধরে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

আলোচনাকালে আত্মনির্ভর ভারত গড়তে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রতিরক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শত্রুদের জন্য কড়া বার্তা প্রেরণ করেন তিনি। সর্বোপরি, ভারতের অখন্ডতা এবং ঐক্য রক্ষায় সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগের কথা দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা।