ভারতে টেকসই অবকাঠামো গড়ার প্রয়াস হিসেবে ব্যক্তি মালিকানাধীন মূলধনকে একত্রিত করতে হাত মিলিয়েছে ভারত এবং যুক্তরাজ্য।

ভারতে গ্রীন প্রজেক্ট বা সবুজ প্রকল্প বৃদ্ধি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের জন্যে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ০২ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ১১ তম অর্থ ও বাণিজ্য সংলাপে (ইএফডি) এই ঘোষণা দেয়া হয়।



উক্ত সংলাপটিতে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে ছিলেন দেশটির রাজস্ব দপ্তরের চ্যান্সেলর ঋষি সুনাক। মূলত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উক্ত ঘোষণাটি দেয়া হয়।



পরবর্তীতে ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের পক্ষে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি অর্জনের যে লক্ষ্য হাতে নিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে উক্ত বিনিয়োগ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।



উল্লেখ্য, ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিমাণ বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান। শুধুমাত্র ২০২০ সালেই দু দেশের মধ্যে প্রায় ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড সমপরিমাণ বাণিজ্য হয়েছে। এছাড়াও, দু দেশের প্রায় অর্ধ মিলিয়ন নাগরিক একে অন্যের অর্থনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।



প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাজ্য এবং ভারতের আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীরতর করার প্রয়াস হিসেবে রোডম্যাপ-২০৩০ প্রকল্পের ঘোষণা দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। উক্ত রোডম্যাপ-২০৩০ অনুসারে চলতি দশকেই দু দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।



আজকের বৈঠকেও ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক পর্যালোচনা পূর্বক সামনের দিনগুলোতে তা আরও জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দু দেশের প্রতিনিধিগণ। এতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিমাণও বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।



এছাড়াও, আজকের সংলাপটিতে আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এবং কোপ-২৬ শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে মতবিনিময় করেন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল। ভারতে টেকসই অবকাঠামো গড়ার প্রয়াস হিসেবে ব্যক্তি মালিকানাধীন মূলধনকে একত্রিত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে যুক্তরাজ্য ও ভারত।