ডেনমার্কই একমাত্র রাষ্ট্র, যার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সবুজ অংশীদারিত্ব রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়াস স্বরূপ আগামী পাঁচ বছরের জন্যে যৌথ কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারত এবং ডেনমার্ক। গত ০৪ সেপ্টেম্বর, শনিবার, দু দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশনের চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।



তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ডেনমার্ক সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজেই। উল্লেখ্য, গত প্রায় বিশ বছরের মধ্যে প্রথম ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দুদিনের সফরে বর্তমানে (০৪ এবং ০৫ সেপ্টেম্বর) ডেনমার্ক অবস্থান করছেন তিনি।



মন্ত্রী বলেন, “যৌথ কর্মপরিকল্পনার কার্যকারিতা সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। এ ধরণের কর্মসূচি করোনা মহামারীর মাঝেও আমাদেরকে ভীষণ সুফল এনে দিয়েছে। আমি উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের প্রশংসা করছি। তাঁরা গত দেড় বছরে ভীষণ পরিশ্রম করেছেন। আর আপনারা নিশ্চয়ই অবগত থাকবেন, আমাদের ইতোমধ্যে ১০ টি ভিন্ন খাতে কাজ করা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে আমরা কেবল ১১ তম ওয়ার্কিং গ্রুপটি যুক্ত করলাম। এটি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট যৌথ পরিকল্পনা এবং অতি অবশ্যই করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটেই এটির প্রাসঙ্গিকতা।”



প্রসঙ্গত, ডেনমার্ক এবং ভারত উভয়ের মধ্যেই কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। ডেনমার্কই একমাত্র রাষ্ট্র, যার সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সবুজ অংশীদারিত্ব রয়েছে।



বৈঠকে পাঁচটি ডেনিশ মালিকানাধীন কোম্পানীর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব নিয়ে তিনি বলেন, “গ্রান্ডফস, ভেস্টাস, মার্স্ক, হালদোর, টপসো এবং সিআইপি'র মতো কোম্পানী গুলো ভারতে সবুজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনতে পারে। এখনও অবধি প্রায় ২০০ ডেনমার্ক মালিকানাধীন কোম্পানী ভারতে কাজ করছে। ডেনমার্কেও ভারতীয় কোম্পানীর সংখ্যা বাড়ছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল আমরা এগিয়ে যেতে পারি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বিনিয়োগ রয়েছে। সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে আমরা ডেনমার্কের সমর্থন কামনা করি।”



এছাড়াও, বাণিজ্য বৃদ্ধি, করোনা মোকাবেলায় অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিবাসন সহ নানা ইস্যুতে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। এসময় ডেনমার্কের রাণীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের পক্ষে রাণীর নিকট কৃতজ্ঞতা পেশ করেন জয়শঙ্কর।