পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এয়ার স্ট্রিপটি ওই অঞ্চল জুড়ে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নজরদারি প্রক্রিয়া বিশেষভাবে সহজতর করবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহন ও হাইওয়ে মন্ত্রী নীতিন গড়করীকে নিয়ে জরুরি অবতরণের মক ড্রিলিং করবে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিমান। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটির রাজস্থানের বারমারের একটি জাতীয় সড়কে এই জরুরি অবতরণ করা হবে।

এরপর দু'জন মন্ত্রী বারমারের ন্যাশনাল হাইওয়েতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এয়ার স্ট্রিপ উদ্বোধন করবেন। আইএএফ-এর ফাইটার জেট এবং অন্যান্য বিমানের জরুরি অবতরণের জন্য এ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এটিই ভারতের প্রথম ন্যাশনাল হাইওয়ে যা ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমান গুলোর জরুরি অবতরণের জন্য ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, অনেক সময়ই বিভিন্ন কারণে যে কোনো বিমানকে জরুরি ল্যান্ডিং করানোর প্রয়োজন পড়ে। বিমান চালানোর সময় হঠাতই পাইলট অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন, কিংবা বিমানে কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা যেতে পারে, অথবা কোনো যাত্রীর মারাত্মক শরীর খারাপও হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে জরুরি ল্যান্ডিং করতে হতে পারে বিমানকে।

এর আগে ২০১৭ সালে আইএএফ-এর ফাইটার জেট ও ট্রান্সপোর্ট বিমান উত্তর প্রদেশের লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে অবতরণের মক ড্রিলিং করেছিল। এই মক ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে দেখানো হয়, এই ধরনের হাইওয়ে গুলো আইএএফ-এর বিমানের আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অবতরণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, এর আগে কখনও এমন ভাবে মন্ত্রীদের নিয়ে মকড্রিলিং করেনি বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমান। ব্যাপারটা অনেকটা হলিউডের কাহিনীর মতো শোনালেও এবার তেমনটাই সত্যিই হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

সূত্রের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তারা ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একযোগে রাজস্থানের বারমারের ন্যাশনাল হাইওয়েতে এই এয়ার স্ট্রিপ তৈরি করেছেন।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারমার ছাড়াও সারা ভারতে কমপক্ষে এমন ১২টি হাইওয়ে তৈরি করা হচ্ছে, যেগুলোকে জরুরি প্রয়োজনে আইএএফ (ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স) এয়ারস্ট্রিপ হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি বিমানের পাইলট মাঝ আকাশে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি করে বিমানটির জরুরি অবতরণ করানো হয় ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে। নাগপুরে এমারজেন্সি ল্যান্ডিং করানো হয় বিমানটির। মাসকট থেকে ঢাকা যাচ্ছিলো বিমানটি। গুরুতর অসুস্থ ওই পাইলটকে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে মারা যান তিনি।