ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রের জাতীয় অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই শান্তিরক্ষার্থে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রম কর্মসূচি’র আওতাধীন ‘ট্রানজিশন’ বিষয়ক উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তৃতা দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখি। গত ০৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার, আয়ারল্যান্ডের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।



সভায় ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লেখি বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবে ভারত। আফ্রিকা অঞ্চল জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘর্ষ পরবর্তী সমাজ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভারতের অবদান সুপরিচিত।”



তিনি বলেন, “যেকোনো রাষ্ট্রের জাতীয় অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই শান্তিরক্ষার্থে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজেদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দেয়া উচিৎ।”



প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা একটি মানবকেন্দ্রিক শান্তিপূর্ণ সমাজ, লিঙ্গ সমতা ভিত্তিক সমাজ এবং প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত সমাজ চাই যেখানের মূল ভিত্তি হবে গণতান্ত্রিক। এটি সার্বিকভাবে আমাদেরকে একটি সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।”



গত সাত দশকে প্রায় ৭০ টি দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন গুলোতে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে উল্লেখ লেখি বলেন, “যেসব নারী ও পুরুষ শান্তিরক্ষার্থে কাজ করেছে, আত্মবলিদান দিয়েছে, তাঁদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, সাহস এবং সার্বিক কর্মকান্ডের জন্য ভারতবাসী তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। আমরা তাঁদের অবদানকে সম্মানের সাথে স্মরণ করি।”



এসময় শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ হওয়া ভারতীয় জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে দেখা যায় তাঁকে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে এ যাবত ৪৯ টি অভিযানে প্রায় আড়াই লক্ষ সৈন্য প্রেরণের মাধ্যমে ভারত সর্বোচ্চ অবদান রাখা রাষ্ট্র। মিশন গুলোতে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করছেন ভারতীয় সৈন্যরা। বর্তমানেও প্রায় ০৯ টি মিশনে সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতিসংঘে প্রথম নারী সৈন্য প্রেরণকারী দেশও ভারত।



প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছর গুলোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন গুলোতে সৈন্যদের সুরক্ষা নিশ্চায়ন এবং তাদেরকে উন্নত সুবিধা প্রদানের বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে ভারত। তাদেরকে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ভারত নিজেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নিরাপত্তা পরিষদেও শক্ত অবস্থান নিয়েছে ভারত।