এস জয়শঙ্কর বলেন, “যেকোনো দেশে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করতে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেয়া উচিৎ হবেনা।”

আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ০৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কেমিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী সহ আরও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণ।



বৈঠকে নিজের বক্তব্যের উপর জোরালো অবস্থান নেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানের নাম না করে তিনি বলেন, “বিশ্বের উচিৎ আফগানিস্তানে বাহ্যিক হস্তক্ষেপ সহ্য না করা, বিশেষ করে যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে কঠিন মুহূর্তে সহিংসতার সৃষ্টি করেছে।”



যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি জে ব্লিংকেন এবং জার্মানির পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী হেইকো মাস-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “যেকোনো দেশে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করতে আফগান ভূমি ব্যবহার করতে দেয়া উচিৎ হবেনা।”



পরবর্তীতে এক টুইটবার্তায় বৈঠকটির বিষয়ে সবাইকে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর নিজেই।

টুইট: https://twitter.com/DrSJaishankar/status/1435630621628383238?s=20



বক্তব্যের এক পর্যায়ে পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে ধুয়ে দেন জয়শঙ্কর। সম্প্রতি দেশটির সামরিক গোয়েন্দা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদের কাবুল সফর এবং তার পরপরই তালেবান সরকার গঠনের বিষয়ে রীতিমতো তোপ দাগেন জয়শঙ্কর। বিশ্ব নেতাদের প্রতি আফগানিস্তানে বাইরের কোনো শক্তিকে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া ভূমিকা নেয়ার আহবান জানান তিনি। এসময় নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের সভাপতিত্বে গৃহীত ২৫৯৩ নং রেজুলেশনের বিষয়টিও অবতারণা করেন তিনি।



উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে তালেবান সরকার গঠনের পেছনে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কাবুলে পাক দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে হাজারো আফগান নাগরিক। পরে বিক্ষোভটিতে গুলি বর্ষণ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় তালেবান নেতৃত্ব।