পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনীতি সর্বদাই এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক মাথায় রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে।”

নিকটবর্তী প্রতিবেশী হওয়ার পাশাপাশি সঙ্গত কারণে ভারত আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, সোমবার, আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।



জয়শঙ্কর বলেন, “যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি বর্তমানে একটি সঙ্কটময় এবং চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে। ইউএনডিপি রিপোর্ট অনুসারে দেশটির দারিদ্রতার হার ৯৭ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটা দারিদ্রতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে যেমন চপেটাঘাত, তেমনই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যেও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।”



পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান কামনা করে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের কূটনীতি সর্বদাই এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক মাথায় রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশটিতে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সার্বিক নিরাপদ ভ্রমণ কার্যকর করতে হবে। যারা আফগানিস্তানে যেতে চান কিংবা দেশটি থেকে বেরুতে চান, তাদেরকে নিরাপদ ভ্রমণের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ত্রাণ সামগ্রীর চালান নির্বিঘ্ন করতে কাবুল বিমানবন্দরে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে তুলতে হবে।”



এসবের পাশাপাশি দেশটিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যেনো শক্ত অবস্থান নেয়া হয় এবং সেটি নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক। এসময় জাতিসংঘের ২৫৯৩ নং রেজুলেশনের কথাও সামনে আনেন তিনি।



প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৩০০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। এই মুহূর্তে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার কারণে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।



তাছাড়া, এমন পরিবর্তিত পরিস্থিতি ভারতের জন্য কিছুটা নেতিবাচক বটে। গত প্রায় দু দশকে আফগানিস্তান জুড়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থে ৫০০ টিরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত। এমনকি দেশটিতে সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাগত বিভিন্ন কেন্দ্রও স্থাপন করেছে নয়াদিল্লী। প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছাড়াও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আফগান ভূখন্ড ভারতের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছিল। এছাড়াও, নিরাপত্তা ইস্যুতে আফগানিস্তান ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।