ভারতের বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ ও গণতন্ত্র আমাদেরকে মানবাধিকার সুরক্ষার শিক্ষা দেয়

ভারত নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘ হাইকমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। মানবাধিকার পরিষদের ৪৮ তম অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য তুলে ধরেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের সচিব (পশ্চিম) রীনাত সান্ধু।



নিজ বক্তৃতায় জাতিসংঘের হাইকমিশনারের বক্তব্যকে “অযৌক্তিক” এবং “বাস্তবতা বিবর্জিত” হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। সান্ধু বলেন, “বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, শান্তি স্থাপন এবং শান্তির বাণী প্রচারে ভারতের ভূমিকা অবিসংবাদিত। আমাদের বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ ও গণতন্ত্র আমাদেরকে মানবাধিকার সুরক্ষার শিক্ষা দেয়।”



উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ৪৮ তম অধিবেশনটি চলবে আগামী ০৮ অক্টোবর অবধি। অধিবেশনে উন্মুক্ত বিতর্কে জবাব দেয়ার সময় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন ভারতীয় কূটনীতিক রীনাত সান্ধু।



সান্ধু আরও বলেন, “ভারত সরকারের পক্ষে মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে যে বিষয় গুলোতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করা প্রয়োজন, তা হচ্ছে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং রাজ্যের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যাবে, কোথাওই তা করা হচ্ছে না। ভারতের নিজস্ব ধরণের গণতন্ত্র, ঐতিহ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।”



এসময়, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি মানবেতর এবং রীতিমতো উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দেন রীনাত। দেশটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানে জাতিসংঘের ২৫৯৩ নং নিবন্ধের দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন তিনি।



প্রসঙ্গত, বর্তমানে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ভারত। তবে পরবর্তী নির্বাচনে ২০২২-২৪ মেয়াদেও সংস্থাটির সদস্যপদে পুনর্নির্বাচিত হতে চাইছে দেশটি। নিজ বক্তব্যের শেষাংশে সদস্য অন্য সকল রাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন রীনাত সান্ধু।