ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখির উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

পর্তুগালে দক্ষ শ্রমিক ও জনবল রপ্তানীকল্পে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। চুক্তিটিকে ইতোমধ্যে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘মাইলফলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীনাক্ষী লেখির তিনদিনের পর্তুগাল সফরকালে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হলো। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পর্তুগাল যান তিনি।

বুধবার, পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়। উল্লেখ্য, ইইউ এর বাইরে প্রথম ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে ভারতীয় শ্রমিক নিয়োগে চুক্তিবদ্ধ হলো পর্তুগাল। চুক্তিটির ফলে দু দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক যেমন একদিকে বর্ধিত হবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থান তৈরীর ফলে দূর হবে বেকারত্ব। পাশাপাশি উভয় রাষ্ট্রই আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

পর্তুগাল সফরকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লেখি। এছাড়াও, দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে পর্যালোচনা করেন লেখি। পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিশ্চায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারেও আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া, মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ভারতীয় নেতৃত্বের ব্যাপক সাহসী পদক্ষেপ এবং ভূমিকার প্রশংসা করে বিবৃতি দেন পর্তুগীজ নেতৃবৃন্দও।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন রাষ্ট্রে চাকুরি হারায় ভারতীয় শ্রমিকগণ। এমন পরিস্থিতিতে পর্তুগালের সঙ্গে হওয়া নতুন চুক্তিটি ব্যাপক ভাবে আশার আলো জোগাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে পর্তুগালের সঙ্গে ব্যাপক সম্পর্ক রয়েছে ভারতের। প্রায় ছয়শ বছর পূর্বে ইউরোপ থেকে ভারতে আগমণ করে পর্তুগীজ নাবিকেরা। তারপর থেকে ভারতে ব্যাপকভাবে বাণিজ্য করেছে দেশটি। একটা সময় অবধি উপমহাদেশীয় বন্দর গুলোর নিয়ন্ত্রণও করতো পর্তুগীজ নাবিকগণ।

তাছাড়া, করোনা মহামারী চলাকালীন সময়েও একে অন্যের পাশে ছিলো দেশ দুটো। মহামারীর প্রকোপ চলাকালেই পর্তুগালে ভ্যাকসিন পাঠায় ভারত। ভারতে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ চলাকালে নানাভাবে সহায়তা পাঠায় পর্তুগীজ সরকার এবং দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয় সম্প্রদায়।