পুষ্টিকর খাদ্যের বিকাশ ও প্রচারে জি-২০ দেশ গুলোর নিকট আগামী ২০২৩ সালকে ভূট্টা বর্ষ হিসেবে উদযাপনের আর্জি জানিয়েছেন ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী।

সাধারণ জনগণের রোজকার খাদ্যতালিকায় ভূট্টা সহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যশস্য, ফলফলাদি, শাক-সব্জি, মাছ, দুগ্ধ এবং এ জাতীয় সকল ঐতিহ্যবাহী খাবার পুনরায় অন্তর্ভূক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ভারতীয় সরকার। গত ১৯ সেপ্টেম্বর, রবিবার, জি-২০ দেশ গুলোর কৃষি মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এসব কথা বলেন ভারতীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার।

জি-২০ কৃষিমন্ত্রীদের বৈঠকের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক ভূট্টা বছর হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। পুষ্টি-শস্যের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে জাতিসংঘ ভারত সরকারের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।”

এসময় তিনি পুষ্টি ও টেকসই কৃষিকে উৎসাহিত করার জন্য এবং পুষ্টিকর খাদ্যের বিকাশ ও প্রচারে জি-২০ দেশ গুলোর নিকট আগামী ২০২৩ সালকে ভূট্টা বর্ষ হিসেবে উদযাপনের আর্জি জানিয়েছেন ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী।

মোদী মন্ত্রীসভার কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “ভারতের কৃষি খাত স্বাধীনতার পর দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। কোভিড মহামারী চলাকালীনও ভারতীয় কৃষি খাত প্রভাবিত হয়নি। কৃষি শৃঙ্খল ও বাজারকে গতিশীল রাখতে আমাদের সরকার বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে।”

এসময়, বিগত অর্থ বছরে কৃষি খাতে রপ্তানী বেড়েছে বলে তথ্য দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি ১৭ টি নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার পানিসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচের জন্য অবকাঠামো তৈরি, সারের সুষম ব্যবহারে মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ এবং খামার থেকে বাজারে সংযোগ প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাছাড়া, ভারতীয় ক্ষুদ্র আয়ের কৃষক সমাজকে সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রী কৃষি যোজনা থেকে প্রতি বছর কৃষকপ্রতি ৬ হাজার করে টাকা দেয়া হয় বলেও জানান তিনি। এই প্রকল্পের অধীনে এখনও অবধি প্রায় ১২ কোটি কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে তথ্য দেন প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।

এসময়, টেকসই কৃষির বিনির্মাণ এবং অপুষ্টি দূরীকরণের উপর নিজেদের দৃঢ় প্রয়াস এবং প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।