ভারত ইতোপূর্বে বিশ্বের ৯৫ টি দেশে প্রায় ৬৬ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করেছিলো।

আগামী মাস থেকে নিজেদের উদ্বৃত্ত করোনা ভ্যাকসিন পুনরায় রপ্তানি শুরু করবে ভারত। গত সোমবার, গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্দাবিয়া। এটি ভারতের ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।



ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র রওনা দেয়ার মাত্র একদিন আগে এমন ঘোষণা দিলেন মান্দাবিয়া। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী দেশ ভারত। ইতোপূর্বে দেশটি বিশ্বের ৯৫ টি দেশে প্রায় ৬৬ মিলিয়নেরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করেছিলো। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নিজ দেশের জনগণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে গত এপ্রিল মাসে ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করে দেয় মোদী সরকার।



চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে ৯৪ কোটিরও বেশি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে ভারত সরকারের। এখন পর্যন্ত দেশটির ৬১ শতাংশ মানুষ অন্তত ১ ডোজ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে।



প্রসঙ্গত, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন নিতে অগ্রিম অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ চুক্তি করলেও ভারত সরকার হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেয়। সেসময় ভারতে করোনা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছিল। ২৫ জানুয়ারি সরকারের কেনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালান ভারত থেকে আসে দেশে।



গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেছিলেন, “ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ভ্যাকসিন উৎপাদনও দ্রুত বাড়ছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় ভ্যাকসিন বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে পারব।”



চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের ৩ কোটি ডোজ সরবরাহ করার কথা ছিলো। সেখানে তারা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে মাত্র ৭০ লাখ ডোজ আর উপহার হিসেবে দুই ধাপে ভারত সরকার পাঠিয়েছে ৩২ লাখ ডোজ।