পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “গত বছর লাদাখে চীনের এক তরফা আক্রমণ সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা স্থাপন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ভারত সরকারের তরফে চীনা কর্তৃপক্ষকেও এ কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ৬ষ্ঠ জেপি মরগান ‘ইন্ডিয়া ইনভেস্টর’ সম্মেলনে “ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এবং এর কৌশলগত বাধ্যবাধকতা” সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা। এসময়, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট নানা ধরণের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, “গত বছর লাদাখে চীনের এক তরফা আক্রমণ সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা স্থাপন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই কাজ আমাদের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সমূহের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বেও এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।”

এসময় ভারত এবং চীনের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে তিনটি মানদন্ড তুলে ধরেন তিনি। শ্রিংলা বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ পারে প্রতিবেশী দু রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন করতে।”

আলোচনাকালে আফগানিস্তান ইস্যুতেও কথা বলেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান নিয়ে আমরা উদ্বীগ্ন। আমরা আশঙ্কা করছি সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হতে পারে দেশটি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্বকালে আমরা এ নিয়ে তিনবার অধিবেশন আহবান করেছিলাম। আমাদের উদ্যোগেই জাতিসংঘে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী রেজুলেশন ২৫৯৩ প্রণীত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ২৫৯৩ নং রেজুলেশন মতে, কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কিংবা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে কিংবা সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করতে আফগানিস্তানের ভূখন্ড ব্যবহার করতে পারবেনা।

আফগানিস্তানে সৃষ্ট সাম্প্রতিক মানবিক সঙ্কট সম্পর্কেও ভারত অবগত রয়েছে এবং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি। আফগান ভূখন্ডে আসন্ন খাদ্য সঙ্কট এবং নিরাপত্তা সঙ্কট ইস্যুতে ভারত সতর্ক রয়েছে এবং আফগান জনগণের সঙ্গে রয়েছে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

একই সঙ্গে, আফগানিস্তানের উন্নয়নে গত দু দশকে ভারতের অবদান গুলো সবার উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করেন শ্রিংলা। তিনি জানান, আফগানিস্তানের ৩৪ টি প্রদেশে প্রায় ৫০০ টিরও বেশি প্রকল্প ভারতীয় তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন রয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসমাপ্ত রাখতে হচ্ছে।

ভবিষ্যতে আফগান জনগণের সঙ্গে পুনরায় অংশীদারিত্ব জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।