কোভিশিল্ড যুক্তরাজ্যের অ্যাস্ট্রাজেনেকার একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য, যা ভারতে তৈরি হয়

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে ব্রিটেন। সম্প্রতি ‍যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনেক নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। তবে ভারতীয়দের এখনো ব্রিটেনে পৌঁছলে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।



নতুন ভ্রমণনীতি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর থেকে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্নার ভ্যাকসিন যারা নিয়েছে, তারা কোয়ারেন্টিন ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবে। কিন্তু ভারতীয়দের ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।



ভারতীয় পররাষ্ট্র এস. জয়শংকর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাসের সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর এই ঘোষণা দিলো যুক্তরাজ্য। এ সিদ্ধান্তে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। অন্যদিকে ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট ইস্যুতে তৈরী হওয়া জটিলতা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ মুখপাত্র।



সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোভিশিল্ডের দুটি টিকা নিয়ে সে দেশে কেউ গেলে তাকে ১০ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “কোভিশিল্ড টিকাকে যুক্তরাজ্যের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। যুক্তরাজ্য যদি কোভিশিল্ডকে অনুমোদন না দেয়, তাহলে ভারতেরও অধিকার থাকবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার।”



ভারতের হুমকির প্রেক্ষিতে অনুমোদন মিলেছে ঠিকই, তবে কোয়ারেন্টাইনে জটিলতা কাঁটাতে এখনও কদিন অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।



বুধবার ব্রিটিশ সরকারের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, “কোভিশিল্ডের ব্যাপারে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, যেসব ভারতীয় কোভিশিল্ডের পূর্ণ ডোজ পেয়েছেন তাদেরকেও যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর আর ১০ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।”



যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া উপদেশে বলা হয়েছে, “তালিকাভুক্ত চারটি টিকার উৎপাদন, যেমন অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিশিল্ড, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাক্সজেভ্রিয়া এবং মডার্না টাকেদা অনুমোদিত টিকা হিসাবে যোগ্যতা অর্জন করেছে।”



যুক্তরাজ্য হাই কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, “ভারত সরকারের টিকান সনদপত্র প্রদানের ধরণ নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। এর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃত ভ্যাকসিন প্রয়োগকারী দেশের তালিকায় ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”