এর মধ্যে ৪০টি উড়োজাহাজ ভারতে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেডের কারখানায় নির্মাণ করবে এয়ারবাস।

ফ্রান্সের বিমান নির্মাতা সংস্থা এয়ারবাসের সঙ্গে ২২ হাজার কোটি রুপি বা ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে ভারত। এ চুক্তির আওতায় এয়ারবাসের সি২৯৫ মডেলের ৫৬টি উড়োজাহাজ ক্রয় করবে দিল্লি। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে এসব উড়োজাহাজ।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এয়ারবাস এন্ড ডিফেন্স স্পেসের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে ১৬টি উড়োজাহাজ ভারতে পাঠাবে এয়ারবাস। স্পেনের সেভিয়ায় অবস্থিত এয়ারবাসের কারখানা থেকে এসব উড়োজাহাজ ভারতে পাঠানো হবে।

বাকি ৪০টি উড়োজাহাজ ভারতে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম লিমিটেডের কারখানায় নির্মাণ করবে এয়ারবাস। টাটা গোষ্ঠীর এ সংস্থার সদর দপ্তর হায়দরাবাদে। তবে বেঙ্গালুরুতেও তাদের একটি কারখানা রয়েছে। এই দুই জায়গার কোনটিতে বাকি ৪০টি বিমান তৈরি করা হবে, তা অবশ্য জানানো হয়নি।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মাঝারি ক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক পরিবহণ বিমান হবে এগুলো। এসব উড়োজাহাজ ৫ থেকে ১০ টন ক্ষমতা সম্পন্ন হবে। সি২৯৫ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ভারতের পাঁচ দশকের পুরনো অ্যাভ্রো-৭৪৮ উড়োজাহাজের স্থলাভিষিক্ত হবে।

ভারতের বিমানবাহিনীর পরিবহনের কাজে ৬১ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে অ্যাভরো-৭৪৮ বিমান। ১৯৬০ সালে ব্রিটেন থেকে এ বিমানগুলো কেনা হয়েছিল। দীর্ঘ ব্যবহারে জীর্ণ এ বিমানগুলো বদল করতেই এ নতুন সিদ্ধান্ত। প্রায় ৯ বছর ধরে এ বিমান বদলের বিষয়টি ভারত সরকার গভীরভাবে বিবেচনা করছিল। প্রতিটি সি-২৯৫ বিমানে ১০ টন মালামাল বহন করা যাবে।

ফ্রান্সের দাসো সিস্টেমসের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি রুপিতে রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তির পর এয়ারবাসের সঙ্গে এটি দ্বিতীয় বড় চুক্তি। তবে সি-২৯৫ চুক্তি নিয়ে কোনো বিতর্ক এখনো উঠেনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি সি-২৯৫ বিমানে দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট থাকবে। পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি করার জন্য ছয়টি ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল’ বিমান তৈরির আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে। চলতি মাসেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।