দুই নেতা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



পরবর্তীতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, “আফগানিস্তান সহ সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন তাঁরা।”



এছাড়াও, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগার সঙ্গে দেখা করার পর প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে টুইট করে লেখা হয়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা সফল একটি বৈঠক করলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। উভয় নেতা বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার উপায় বের করা ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।”



বিবৃতি অনুসারে জানা যায়, এই বছরের শুরুর দিকে ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সাপ্লাই চেইন রেসিলিয়েন্স ইনিশিয়েটিভ (এসসিআরআই) প্রবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিলো দেশ গুলোর নেতৃত্ব, যাতে স্থিতিস্থাপক, বৈচিত্র্যময় এবং বিশ্বস্ত সাপ্লাই চেইন ও বাণিজ্য নিশ্চিত করা যায়। গতকালের বৈঠকে এই ইস্যুতেও আলোচনা করেন উভয় প্রধানমন্ত্রী।



তাছাড়া জাপানে ভারত থেকে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের বিষয়েও যে পূর্ব সিদ্ধান্ত হয়েছিলো, সে অনুসারে আগামী বছরের শুরুতেই পদক্ষেপ নেবে জাপান। মোদীকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ রূপে আশ্বস্ত করেছেন সুগা।



এছাড়াও, আলোচনাকালে ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরে এই বিষয়ে ভারত-জাপান ডিজিটাল পার্টনারশিপের আদ্যোপান্ত নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ শক্তির উত্তরণ ও ভারতের জাতীয় হাইড্রোজেন শক্তি মিশনের সঙ্গে জাপানি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।



তাছাড়া, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল (এমএএইচএসআর) প্রকল্পের মসৃণ ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নের সুবিধা নিশ্চিত করতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন জাপান ও ভারতের এ দুই শীর্ষ নীতি-নির্ধারক। একই সঙ্গে আলোচনায় থাকা ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি ইস্যুতেও আলোচনা করেন মোদী ও সুগা।



মহামারী পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির গতি পুনরুদ্ধারে এবং সবার জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহ করণের বিষয়ে আলোচনায় জোর দেন মোদী ও সুগা। এসময়, মহামারী কালে ভারতকে সহযোগিতা করা জাপানী নাগরিক এবং জাপানে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদী।



আলোচনার এক পর্যায়ে মহামারীর মধ্যে সফলভাবে টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগাকে অভিনন্দন জানান মোদী এবং শীঘ্রই জাপান-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তাঁকে ভারত ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান তিনি।