আলোচনাকালে দু দেশের মধ্যকার স্থিতিশীল বাণিজ্য এবং নিরাপদ সরবরাহ চেইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন উভয় নেতা।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, হোয়াইট হাউজে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্বালে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো সামলানোর কারণে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বাইডেনের সাথে মোদির সাক্ষাৎ হয়েছিল। তবে নতুন পরিচয়ে এই প্রথম।

করোনা মহামারি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, কোয়াডসহ নানা বিষয়ে ওভাল অফিসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভূ-রাজনৈতিক এবং কৌশলগত কারণে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ এই বৈঠকটিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যুতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে দুই নেতার।

জানা গিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ পুনরায় শুরু হচ্ছে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড পলিসি ফোরাম। বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে নিজেদের মধ্যকার আলোচনাকালে এ সিদ্ধান্ত নেন মোদী ও বাইডেন।

এসময়, উভয় নেতৃত্ব বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ২০২২ সালের প্রথম দিকে ভারত-মার্কিন সিইও ফোরাম এবং বাণিজ্যিক সংলাপ আহ্বান করার বিষয়ে একমত হোন। তাছাড়া, বিনিয়োগ ও প্রণোদনা সংক্রান্ত আলোচনাধীন নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।

তাছাড়া, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই অঞ্চল বিনির্মাণে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন দুই নেতা। অঞ্চল জুড়ে নানা ধরনের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড পরিচালনায় নিজেদের সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের বিষয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

এসবের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি বিনিময়, শিক্ষার্থী বিনিময়, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গৃহীত পদক্ষেপ, ভ্রমণ জটিলতা নিরসন, অভিবাসন ইস্যু, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করেন মোদী ও বাইডেন।

উভয় নেতৃত্ব ফার্মাসিউটিক্যালস, বায়োটেকনোলজি, সেমিকন্ডাক্টরস এবং ইনফরমেশন টেকনোলজির মতো সম্ভাবনাময় খাতে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বের উপর জোর দেন। তাছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একত্রে লড়াই করতে এবং এসডিজি অর্জনে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তাঁরা।

একই সঙ্গে, ভারতে সম্ভাব্য ৫ জি ও ৬ জি প্রচলন, মহাকাশ অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইস্যুতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন বাইডেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পেও ভারতের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বাইডেন।

বৈঠকে বাইডেন বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরো শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।” সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই যে তিনি এই কথা বলেছিলেন, সেটাও স্মরণ করিয়ে দেন বাইডেন।

উত্তরে মোদি বলেন, “একটি নতুন দশক শুরু হয়েছে। তাতে বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন নতুন এই নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করে ভারত। দুই দেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলোকে একসাথে মোকাবেলা করতে হবে।”

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৬ সালে এবং ২০১৪ সালে বাইডেনের সঙ্গে আমার কথা হয়, যখন তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সেই সময় ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের বিষয়ে বাইডেনের ভাবনা খুবই প্রেরণাদায়ক ছিল। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই ভাবনার বাস্তবায়নের জন্য বাইডেন যা করছেন তা রীতিমতো প্রশংসার দাবিদার। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সম্প্রসারণের বীজ বপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।”

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর হতে চলেছে বলেও অভিমত দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। এসময়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় চার মিলিয়ন ইন্দো-আমেরিকান অভিবাসীর প্রসঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব অভিবাসীগণ প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করতে শ্রম দিচ্ছেন বলে তাঁদের সম্মান জানান বাইডেন।

বৈঠক শেষে মোদি এক টুইটে বলেন, “জো বাইডেনের সঙ্গে দারুণ বৈঠক হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। আগামী দিনে কোভিড পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমেরিকা ও ভারত কীভাবে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।”