প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সম্প্রসারণের বীজ বপণ করা হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, হোয়াইট হাউজে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্বালে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।

আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সাথে বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। করোনা মহামারি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, কোয়াডসহ নানা বিষয়ে ওভাল অফিসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাইডেন বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরো শক্তিশালী ও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে।” সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই যে তিনি এই কথা বলেছিলেন, সেটাও স্মরণ করিয়ে দেন বাইডেন।

উত্তরে মোদি বলেন, “একটি নতুন দশক শুরু হয়েছে। তাতে বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন নতুন এই নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করে ভারত। দুই দেশের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলোকে একসাথে মোকাবেলা করতে হবে।”

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৬ সালে এবং ২০১৪ সালে বাইডেনের সঙ্গে আমার কথা হয়, যখন তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন। সেই সময় ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কের বিষয়ে বাইডেনের ভাবনা খুবই প্রেরণাদায়ক ছিল। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই ভাবনার বাস্তবায়নের জন্য বাইডেন যা করছেন তা রীতিমতো প্রশংসার দাবিদার। আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সম্প্রসারণের বীজ বপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।”

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর হতে চলেছে বলেও অভিমত দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তবে এক্ষেত্রে অনেক কাজ এখনো বাকি রয়েছে বলে স্বীকার করেন মোদী। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিডের কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

উক্ত বৈঠকে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রসঙ্গ অবতারণা করেন বাইডেন। তিনি বলেন, “আগামী মাসে গান্ধীজীর জন্মদিন। তাঁর আদর্শকে তুলে ধরতে হবে এবং আমেরিকা তাঁর দেখানো অহিংসা এবং শান্তির আদর্শে পথে চলবে।”

এসময়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় চার মিলিয়ন ইন্দো-আমেরিকান অভিবাসীর প্রসঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব অভিবাসীগণ প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করতে শ্রম দিচ্ছেন বলে তাঁদের সম্মান জানান বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গত নির্বাচনে ভারত প্রকাশ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে মত দিয়েছিল। নির্বাচনে বিপরীত ফল হওয়ায় ভারত স্বভাবতই একটু কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাথে মোদির বৈঠকের পর থেকেই ভারতীয়রা আশ্বস্ত হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা বদল হলেও দুই দেশের সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না।

বৈঠক শেষে মোদি এক টুইটে বলেন, “জো বাইডেনের সঙ্গে দারুণ বৈঠক হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। আগামী দিনে কোভিড পরিস্থিতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমেরিকা ও ভারত কীভাবে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।”