কোয়াড দেশ গুলোর বিনিয়োগে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন তৈরীর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ভারতের ‘বায়োলজিকাল ই’।

প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে গঠিত জোট কোয়াড এর শীর্ষ নেতৃত্ব। গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকালে করোনা মহামারী পরবর্তী টেকসই বিশ্ব গঠন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় লড়াই এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গণতন্ত্র স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দিয়েছেন নেতারা।

এসময়, আগামী অক্টোবর মাস থেকে বিশ্বজুড়ে ভারতের করোনা ভ্যাকসিন পুনরায় রপ্তানীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কোয়াড নেতৃত্ব। তাছাড়া, অক্টোবর মাসে ভারত সরকারের ৫০ শতাংশ অর্থায়নে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক কোম্পানি ‘বায়োলজিকাল ই’ কর্তৃক ১০ লক্ষ ভ্যাকসিন ডোজ তৈরীর সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান তাঁরা।

জানা গিয়েছে, কোয়াড জোট ভূক্ত দেশ গুলোর অনুদান ও বিনিয়োগে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় এক বিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন তৈরীর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ‘বায়োলজিকাল ই’। এর মধ্যে জাপান প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে এবং অস্ট্রেলিয়া করবে ২১২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, ভারত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতায় আরও অতিরিক্ত ২১৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করবে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তাছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

উক্ত ভ্যাকসিন তৈরীর সম্মিলিত কার্যক্রমের মাধ্যমে কোয়াড ভূক্ত দেশ গুলো মিলে আগামী বছর নাগাদ প্রায় ১.২ বিলিয়ন টিকা তৈরীর আশা করছে। এসব ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং জিনোমিক নজরদারি জোরদার করার ব্যাপারেও আলোচনা করেছেন তাঁরা।

এছাড়াও, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা ইস্যুতে আলোচনা করেন কোয়াড নেতারা। বৈঠকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, “আমরা উদার ধারার গণতান্ত্রিক দেশগুলো স্বাধীনতার পক্ষে। আমরা স্বাধীন ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চাই। কারণ, মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশেই শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে।”

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, “এই বৈঠকের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সংহতি শক্তিশালী হবে।” অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, “কোয়াডভুক্ত চার প্রধান গণতান্ত্রিক দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। আমরা জানি কীভাবে কোনো কিছুর সমাধান করতে হয়। আর আমরা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেন। মোদী বলেন, “আমাদের কোয়াড জোট বিশ্বের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক ও বিশ্ব শান্তির জন্য জরুরি।”

এদিন কোয়াড বৈঠকে নিজের বক্তব্যের সূচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “২০০৪ সালে সুনামির সময়ে আমরা হাত মিলিয়ে কাজ করেছিলাম। পরে কোয়াডের সদস্য হিসেবে একসঙ্গে কোভিড মোকাবিলাও করেছি। কোয়াড ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবে।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “একভাবে, আমাদের চতুর্দেশীয় জোট বৈশ্বিক মঙ্গলের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। আজ, যখন বিশ্ব কোভিড মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, কোয়াডের অধীনে আমরা আবার মানবতার কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখানে এসেছি।”