পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে সরব হওয়ার পর কড়া জবাব দিলো ভারত।

জাতিসংঘে চলতি সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অভূতপূর্ব এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ভারত। জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তান কর্তৃক বেআইনীভাবে দখলকৃত ভারতীয় ভূখন্ড অবিলম্বে ত্যাগ করতে পাক সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে ভারত। নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ ধরণের কঠোর অবস্থান ভারতের আরও প্রায় ৭০ বছর পূর্বেই নেয়া উচিৎ ছিলো।

মূলত জাতিসংঘে এক ভিডিও বার্তায় কাশ্মীরের বিরোধ মেটাতে এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান খান। এছাড়া ভারতের সামরিক গঠন, উন্নত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর এই ভাষণের পর ‘রাইট টু রিপ্লে’ -তে জবাব দেন ভারতের প্রতিনিধি।

এরপরই জাতিসংঘে কাশ্মীর ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে তুলোধুনো করেন ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি স্নেহা দুবে। ইমরান খানের ভাষণের পর ‘রাইট টু রিপ্লে’ -তে জবাব দেন তিনি। এই কূটনীতিক বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

শুক্রবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি বলেন, “যেসব সন্ত্রাসী সংগঠন গুলোকে ভারত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে সব থেকে বেশি সংগঠন পাকিস্তানের মাটি থেকেই নাশকতা চালায়। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনকেও তারা আশ্রয় দিয়েছিলো। পাক সরকার তাকে শহীদের মর্যাদাও দেয়। তাই শান্তির বার্তা পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখে মানায় না।”

পাকিস্তান নিজেদের উঠানে সন্ত্রাসীদের লালন পালন করছে উল্লেখ করে স্নেহা দুবে আরও বলেন, “ইসলামাবাদের এমন নীতির কারণে ভারতসহ গোটা বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসের কারণে শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টানদের মতো সংখ্যালঘুদের ভয়ে বাঁচতে হয়। আরও একবার বলছি, জম্মু কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল, আছে, থাকবে। এর মধ্যে পাকিস্তানের বেআইনিভাবে দখল করা ভূখণ্ডও আছে।”

ভারতের এমন কড়া জবাব এবং প্রত্যয়ী অবস্থান আমাকে রীতিমতো মুগ্ধ করেছে। এর আগে ১৯৯৪ সালে ভারতের সংসদ একটা রেজোলুশন করে, যেখানে দাবি করা হয় “পাকিস্তানকে অবশ্যই ভারতের প্রদেশ জম্মু এবং কাশ্মীরের ঐসব এলাকা থেকে সরে যেতে হবে, যেসব এলাকা পাকিস্তান আগ্রাসনের মাধ্যমে দখল করে রেখেছে।”

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে জাতিসংঘে এমন কড়া জবাব এবং অবস্থান ভারত এর আগে নিয়েছে বলে মনে পড়েনা। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ দমন এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের অবস্থান সর্বদাই স্বীকৃত। তাছাড়া, ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে ‘প্রতিবেশী প্রথম’ কথাটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত বলেও গোটা বিশ্ব জানে।

এমন পরিস্থিতিতে, পাকিস্তান কর্তৃক ক্রমাগত ভারতের উপর বিষেদাগার এবং দোষারোপের কড়া জবাব দেয়া অবশ্য করণীয় ছিলো বলেই মনে করি। তাই অধিবেশনে ভারতের নেয়া অবস্থানকে ভীষণভাবে সাধুবাদ জানাই।

আজ জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ইতোমধ্যে বাইডেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কোয়াড সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে ভারতীয়দের আত্মবিশ্বাস এবং বৈশ্বিক মর্যাদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আশা করছি ৭৬ তম সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে আরও বৈপ্লবিক এবং অভূতপূর্ব কিছুর সন্ধান পেতে চলেছি।